Real Online Income ( Outsourcing Info : Freelancing )


Public Varsity

এইচএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের প্রধান লক্ষ্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া। ক ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা শেষ। এখন অপেক্ষা খ, গ ও ঘ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার। এবারের শিক্ষার্থীদের জন্য পরামর্শ দিয়েছেন গত দুই বছরের মেধাবীরা।

অনুমান করে উত্তর নয়

খ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা ২১ অক্টোবর। হাতে সময় মাত্র দুই দিন। এ সময় মাথা ঠান্ডা রাখাটাই হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। নতুন কিছু মুখস্থ করার চেষ্টা একদমই করা যাবে না। খ ইউনিটে বাংলা ও ইংরেজির সঙ্গে সাধারণ জ্ঞান বিষয়ে প্রশ্ন থাকে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো থেকে অনেক প্রশ্ন আসতে পারে। তাই সাম্প্রতিক ঘটে যাওয়া বিষয়গুলোর সাল-তারিখ-নাম বেশি বেশি দেখে নাও, মনে রাখতে চেষ্টা করো।
আমার পরীক্ষার আগে, আমি সব বিষয়ের কিছু নোট করে নিয়েছিলাম। নিশ্চয়ই তোমরাও ইতিমধ্যে নিজের মতো করে তেমনটা করেছো। এ সময় ইংরেজিতে একটু সময় দিতে পারো। ইংরেজির যে বিষয়গুলো তোমার কাছে কঠিন মনে হয়, সেগুলো আরও একবার করে দেখে নাও।
পরীক্ষার দিন অন্তত আধা ঘণ্টা আগে পরীক্ষার কক্ষে পৌঁছাও। পরীক্ষা শুরুর আগে অন্য কারও কথায় বিভ্রান্ত হবে না।
আমি প্রথমে সাধারণ জ্ঞান, তারপর বাংলা এবং শেষে ইংরেজির উত্তর দিয়েছিলাম। তবে যে কেউ অন্যভাবেও তা পূরণ করতে পারে। আমার অনুরোধ থাকবে, না জেনে অনুমান করে কেউ উত্তর দিয়ো না। এতে লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হতে পারে। জানো তো, প্রতি চারটি ভুল উত্তরের জন্য এক নম্বর কাটা যায়। সব সময় মনকে বোঝাও, এই একটি পরীক্ষায় ভালো করতে পারলেই তুমি চলে আসবে তোমার স্বপ্নের ঠিকানা—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

সময়ের হিসাবটা জরুরি

গ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা ২৮ অক্টোবর। তোমাদের হাতে আছে মাত্র সপ্তাহ খানের সময় (৯ দিন)। আমার পরামর্শ হচ্ছে, এ সময় ইংরেজিতে একটু বেশি মনোযোগ দাও। ইংরেজি গ্রামার থেকে কমবেশি ১৫টির মতো প্রশ্ন থাকে।
গ ইউনিটের পরীক্ষা হয় ইংরেজি, বাংলা, অ্যাকাউন্টিং আর ব্যবসায় নীতি ও প্রয়োগ থেকে। প্রতি বিষয়ে ২৫টি করে প্রশ্ন এবং প্রতি প্রশ্নের মান ১.২। তবে ভুল পাঁচটি উত্তরের জন্য একটি সঠিক উত্তরের নম্বর কাটা যায়।
এখন শুধু বাসায় বসে গ ইউনিটের বিগত বছরের প্রশ্নগুলোর সমাধান করার চেষ্টা করো। এতে তোমার যেসব দুর্বলতা আছে, তা কাটিয়ে উঠতে পারবে। আমার মতে, পরীক্ষার আগের এ সময়টায় বেশি রাত জেগে না পড়াই ভালো। সকালের আবহাওয়ায় কঠিন বিষয়গুলো রপ্ত করা সহজ হয়। তাই রাত না জেগে দিনে পড়ো। এখন বাংলার জন্য মাধ্যমিকের দ্বিতীয় পত্র এবং উচ্চমাধ্যমিকের প্রথম পত্রটা পুনরায় পড়তে পারো। পরীক্ষার দিনে অন্তত ৪০ মিনিট আগে হলে উপস্থিত হওয়া ভালো। এতে পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া সহজ হয়। উত্তরপত্রে সঠিকভাবে প্রয়োজনীয় তথ্যের ঘর পূরণ করাটা জরুরি। আর সবচেয়ে জরুরি হলো সময়জ্ঞান। পরীক্ষার হলে তোমাকে এক ঘণ্টার জন্য স্বার্থপর হতে হবে। নিজেকে ছাড়া কারও কথা ভাবা যাবে না। মনোযোগ সহকারে উত্তর করো। আশা করি, তোমার জন্যই অপেক্ষায় আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

পাঠ্যপুস্তকে গুরুত্ব দাও

ঘ ইউনিট হলো বিভাগ পরিবর্তনের ইউনিট। বিজ্ঞান, বাণিজ্য ও কলা—সব শিক্ষার্থীর জন্য এটি উন্মুক্ত। ঘ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা ১৮ নভেম্বর। ঘ ইউনিটের জন্য হাতে এখনো কিছুটা সময় আছে। এ সময়টাতে তাত্ত্বিক কিছু না পড়ে এমসিকিউ ধরনের প্রশ্ন বেশি পড়তে হবে।
ঘ ইউনিটে ১২০ নম্বরের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এখানে প্রতি প্রশ্নের মান ১.২৫। বাংলা ও ইংরেজি থেকে ২৫টি করে এবং সাধারণ জ্ঞান থেকে ৫০টি প্রশ্ন থাকে। সাধারণ জ্ঞানের মধ্যে আবার বাংলাদেশবিষয়ক ২৫টি ও আন্তর্জাতিক ঘটনা থেকে ২৫টি প্রশ্ন থাকে। তাই এ বিষয়ে আলাদা মনোযোগ দাবি রাখে। আমি মনে করি, এখানে চান্স পাওয়া খুব কঠিন কিছু নয়, শুধু প্রস্তুতিটার ক্ষেত্রে থাকতে হবে অনেক সতর্ক। সে জন্য পাঠ্যপুস্তকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। চর্চাটা বেশি করলে পরীক্ষার হলে টেনশন থাকবে না।
পরীক্ষার দিনের জন্য বলব, কোনোভাবেই ভুল উত্তর করা যাবে না। মনে রেখো, ভুল উত্তরের জন্য নম্বর কাটা যায়। উত্তরপত্রে বৃত্ত ভরাট করার সময় অবশ্যই প্রশ্নের নম্বর ও উত্তরের নম্বর দেখে নিতে হবে। অনেক সময় একটি ঘর ভুলের কারণে পরবর্তী সব উত্তর এক ঘর পিছিয়ে যায়। ফলে সব উত্তর ভুল হয়ে যেতে পারে। তাই এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির বিষয়ে আমি এক কথায় বলব, নিজের প্রতি আস্থা রাখো। আত্মবিশ্বাসই তোমাকে অনেক এগিয়ে দেবে।

জোর দিতে হবে সাধারণ জ্ঞানে

ঘ ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি ও সাধারণ জ্ঞানবিষয়ক প্রশ্ন থাকে। তোমরা যারা ঘ ইউনিটে পরীক্ষা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছ, তাদের জন্য বলব, বাংলা ও ইংরেজি গ্রামারটা ভালো করে বোঝার চেষ্টা করো। অকারণে মুখস্থ করতে যেয়ো না। বাংলা প্রথমপত্রের গল্প ও কবিতা থেকে প্রশ্ন হয়। ইংরেজির বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ ইত্যাদি মনে রাখবে—এ ধরনের প্রশ্ন বিগত বছরগুলোয় এসেছে। সত্যি বলতে কি, ঘ ইউনিটে সাধারণ জ্ঞান অংশটা ভালো করলে সুযোগ পাওয়াটা সহজ হয়। এ জন্য নিয়মিত সংবাদপত্র পড়া আর টিভির খবর দেখার বিকল্প নেই। পত্রিকা পড়তে গিয়ে নতুন কোনো তথ্য পেলে তা অবশ্যই নোট রাখবে। তাহলে পরীক্ষার আগের দুই দিন ওখানে চোখ বোলাতে পারবে।
সাধারণ জ্ঞানে ভালো করতে মানচিত্রটা মনে গেঁথে নিতে পারো। খেলাধুলা, আবিষ্কার, রাজনীতি, স্থাপনা, পুরস্কার, সাম্প্রতিক আলোচিত ঘটনা ইত্যাদি সম্বন্ধে ভালো ধারণা রাখতে হবে। বিভিন্ন সাল-তারিখ মনে রাখতে হবে। পত্রিকা পড়া ছাড়াও বিসিএস গাইড বই থেকে সাধারণ জ্ঞানের অধ্যায়গুলো ভালো করে পড়তে পারো। সাধারণ জ্ঞানের ক্ষেত্রে যেকোনো প্রশ্ন আসতে পারে। তাই তোমার তথ্যভান্ডার যত সমৃদ্ধ হবে, তোমার জন্য উত্তর করা তত সহজ হবে।
আর সবশেষে বলব, পরীক্ষার সময়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভর্তি পরীক্ষার এক ঘণ্টা তোমার পরবর্তী শিক্ষাজীবন কেমন হবে তা নির্ভর করে। তোমাদের জন্য শুভ কামনা।