Real Online Income ( Outsourcing Info : Freelancing )
- Microworkers (2)
- Search Engine Optimization ( SEO ) (2)
- oDESK (2)
- What is freelancing ? (1)
Sunday, October 30, 2011
e-Book_Novel / Story / Poem etc.
e-Book_Medical / Dental
Medical Question Bank
Admond Hilary ( Avarest winner)
প্রথম এভারেস্ট বিজয়ী স্যার অ্যাডমন্ড পার্সিভ্যাল হিলারি ২০ জুলাই ১৯১৯ সালে নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫৩ সালের ২৯ মে তিনি ও শেরপা গাইড তেনজিং নোরগে সর্বপ্রথম এভারেস্ট জয় করেন। এর আগে পৃথিবীর সর্বোচ্চ এই পর্বতশৃঙ্গকে জয় করা মানুষের সাধ্যের বাইরে মনে করা হতো। ২০০৮ সালের ১১ জানুয়ারি স্যার এডমন্ড হিলারির মৃত্যু হয়।
সে সময় নিউজিল্যান্ডে ছেলেমেয়েরা হাইস্কুলে ভর্তি হতো মোটামুটি ১৩ বছর বয়সে। কিন্তু আমি প্রাইমারি স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে মাত্র ১১ বছর বয়সেই হাইস্কুলে ঢুকে পড়ি। আর এমনটা হবেই বা না কেন? আমার মা ছিলেন আমাদের ছোট্ট অকল্যান্ডের একটা প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক। তিনি আমার লেখাপড়ার বিশেষ যত্ন নিতেন সব সময়। তাই ওই অল্প বয়সেই আমি বেশ ভালো ছাত্র হয়ে উঠি আর ক্লাসে অটো প্রমোশন পেয়ে ১১ বছর বয়সেই হাইস্কুলে ঢুকে পড়ি। তাও আবার নিউজিল্যান্ডের সেই সময়ের সবচেয়ে সেরা স্কুলগুলোর একটায়। যাই হোক, সেখানে গিয়ে দেখি ক্লাসের সবাই আমার থেকে বেশ বড়। আমাকে ওদের মাঝে বেশ ছোট ছোট মনে হতো। তবে বছর খানেকের মধ্যে আমিও ধীরে ধীরে লম্বা হয়ে উঠলাম। শক্তিশালীও হলাম। নিজের হারানো আত্মবিশ্বাস এভাবেই ফিরে পেলাম। ফলাফল ভালো হতে শুরু করলো ঠিক আগের মতো।
আমি যে অসাধারণ মেধাবী ছাত্র ছিলাম, তা কিন্তু নয়। আমি আসলে এমন ছাত্র ছিলাম, যে কিনা সব সময় নিজের প্রয়োজনীয় লেখাপড়াটা ঠিকভাবে, ঠিক সময়ে করে রাখত। বাবা-মায়ের কাছ থেকে আমি এই স্বভাবটা পেয়েছি। তাদের দুজনেই নীতির দিক থেকে ছিলেন আপসহীন। বাবা একটা ছোট্ট পত্রিকা সম্পাদনা করতেন। শুধু সম্পাদনা বললে অবশ্য ভুল হবে; তিনি একাধারে ওই পত্রিকার মালিক, প্রকাশক, সম্পাদক, প্রতিবেদক, আলোকচিত্রী—সব ছিলেন। শুধু ঘরে ঘরে পত্রিকা বিলি করার কাজটাই করতে হতো না বাবাকে।
সে সময় দুর্ভিক্ষ শুরু হল। অসৎ কিছু ব্যবসায়ী খাদ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মুনাফা লোটার চেষ্টা করছিল। বাবা এ নিয়ে অনেক লেখালেখি করেছিলেন নিজের পত্রিকায়। আমি যদি কোনো দিন খেতে বসে খাবার নষ্ট করার চেষ্টা করতাম, তাহলে মা আমাকে মনে করিয়ে দিতেন এশিয়া মহাদেশের এমন অনেক হতদরিদ্র মানুষের কথা, যারা কিনা খাবারের অভাবে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। তখন ছোট্ট আমি কিছুতেই বুঝতে পারতাম না যে আমি খাবার নষ্ট করলে ওই সব দুর্ভাগা মানুষের কী সমস্যা। অবশ্য বড় হয়ে যখন বুঝতে পেরেছি আসল সমস্যাটা, তখন চেষ্টা করেছি ওই সব হতভাগা মানুষের পাশে দাঁড়ানোর।
আজ আমাকে বিশ্ববাসী চেনে পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট জয়ের জন্য। কিন্তু সত্যি বলতে কি, মাউন্ট এভারেস্ট জয়ের পরে যে বিশ্ববাসীর এত ভালবাসা, সন্মান পাব, তা আমি কখনোই ভাবিনি। আর তার চাইতেও বড় কথা, আমি যে কোনো দিন এভারেস্ট জয় করব, সেটাই কখনো চিন্তা করিনি। এমনকি যখন আমি মাউন্ট এভারেস্টের পাদদেশ থেকে যাত্রা শুরু করি, তখনো আমি সংশয়ে ছিলাম এ ব্যাপারে। আমি জানতাম না, আসলে কোনো মানুষের পক্ষে আদৌ সম্ভব কিনা মাউন্ট এভারেস্ট জয় করা।
কৃত্রিম অক্সিজেন ব্যবহার করেও বরফে ঢাকা বিপৎসংকুল ২৯ হাজার ৩৫ ফুট উঁচু কোনো পর্বত পাড়ি দেওয়াটা কোনো সহজ কাজ ছিল না কখনোই। আর শুধু ওপরে উঠলেই তো হয়ে গেল না! ওপরে উঠে আবার নিচেও নেমে আসতে হবে ওই বিপৎসংকুল পথ পাড়ি দিয়ে। পৌঁছানোর মাত্র ৩০ ফুট আগেও জানতাম না চূড়ায় পা রাখতে পারব কিনা আদৌ! এমনো হতে পারত, হয়তো চূড়ায় পা রেখেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছি বা নেমে আসার সময় বরফের কোনো গুপ্ত ফাটলের নিচে সমাধি হতে পারত। পুরো অভিযান শেষে নিচে নেমে আসার আগ পর্যন্ত জানতাম না এটা কোনো মানুষের পক্ষে সম্ভব কি না। কিন্তু একটা কথা সত্য, আমি এক মুহূর্তের জন্যও মনোবল হারাইনি অভিযানের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত। আমি তো মনে করি, যেকোনো কাজ সফলভাবে করার জন্য যে জিনিসটা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তা হলো মনোবল। হ্যাঁ, এটা ঠিক যে শারীরিক সামর্থ্য, কারিগরি দক্ষতা, এমনিকি টাকা-পয়সারও প্রয়োজন রয়েছে অবশ্যই, কিন্তু সবচেয়ে বড় প্রয়োজনটা হলো মনের জোর। কঠোর মনোবল, দৃঢ় সংকল্প, প্রবল উৎসাহ ছাড়া কোনো কাজই ঠিকভাবে করা সম্ভব নয়। এটাই আসলে মূল পার্থক্য গড়ে দেয় একজন সাধারণ মানুষ আর একজন বিখ্যাত মানুষের মধ্যে।
ছোটবেলায় পড়া হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড, জর্জ হায়ারের বই পড়ে আমার সময় কাটত। আমি এসব বই পড়ে শক্তি পেতাম। আমার মনোবল শক্ত হয়েছে এভাবেই। আমি মনে করি, খুব বেশি মেধাবী হওয়ার দরকার নেই বিশেষ কিছু হওয়ার জন্য, বা বিখ্যাত হওয়ার জন্য। তরুণদের প্রতি আমার উপদেশ হলো, তোমরা সব সময় বড় কিছু চিন্তা কোরো। বড় কিছু পাওয়ার চেষ্টা কোরো। হয়তো একবারে পারবে না, দুবারেও পারবে না, কিন্তু একসময় বিজয় আসবেই। কোনো কাজ বারবার চেষ্টা করলে সেই কাজের ওপর আরও বেশি দখল আসে। সেই কাজ করা আরও বেশি সহজ হয়ে যায়। যেকোনো কিছু জয় করার সামর্থ্য রয়েছে তোমার। বিশেষ কিছু করতে হলে বিশেষ কোনো মানুষ হতে হবে, তা নয় মোটেও। আমি মনে করি, যে কারও পক্ষে সম্ভব যেকোনো অসম্ভবকে সম্ভব করা।
সূত্র: একাডেমি অব অ্যাচিভমেন্ট।
সে সময় নিউজিল্যান্ডে ছেলেমেয়েরা হাইস্কুলে ভর্তি হতো মোটামুটি ১৩ বছর বয়সে। কিন্তু আমি প্রাইমারি স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে মাত্র ১১ বছর বয়সেই হাইস্কুলে ঢুকে পড়ি। আর এমনটা হবেই বা না কেন? আমার মা ছিলেন আমাদের ছোট্ট অকল্যান্ডের একটা প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক। তিনি আমার লেখাপড়ার বিশেষ যত্ন নিতেন সব সময়। তাই ওই অল্প বয়সেই আমি বেশ ভালো ছাত্র হয়ে উঠি আর ক্লাসে অটো প্রমোশন পেয়ে ১১ বছর বয়সেই হাইস্কুলে ঢুকে পড়ি। তাও আবার নিউজিল্যান্ডের সেই সময়ের সবচেয়ে সেরা স্কুলগুলোর একটায়। যাই হোক, সেখানে গিয়ে দেখি ক্লাসের সবাই আমার থেকে বেশ বড়। আমাকে ওদের মাঝে বেশ ছোট ছোট মনে হতো। তবে বছর খানেকের মধ্যে আমিও ধীরে ধীরে লম্বা হয়ে উঠলাম। শক্তিশালীও হলাম। নিজের হারানো আত্মবিশ্বাস এভাবেই ফিরে পেলাম। ফলাফল ভালো হতে শুরু করলো ঠিক আগের মতো।
আমি যে অসাধারণ মেধাবী ছাত্র ছিলাম, তা কিন্তু নয়। আমি আসলে এমন ছাত্র ছিলাম, যে কিনা সব সময় নিজের প্রয়োজনীয় লেখাপড়াটা ঠিকভাবে, ঠিক সময়ে করে রাখত। বাবা-মায়ের কাছ থেকে আমি এই স্বভাবটা পেয়েছি। তাদের দুজনেই নীতির দিক থেকে ছিলেন আপসহীন। বাবা একটা ছোট্ট পত্রিকা সম্পাদনা করতেন। শুধু সম্পাদনা বললে অবশ্য ভুল হবে; তিনি একাধারে ওই পত্রিকার মালিক, প্রকাশক, সম্পাদক, প্রতিবেদক, আলোকচিত্রী—সব ছিলেন। শুধু ঘরে ঘরে পত্রিকা বিলি করার কাজটাই করতে হতো না বাবাকে।
সে সময় দুর্ভিক্ষ শুরু হল। অসৎ কিছু ব্যবসায়ী খাদ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মুনাফা লোটার চেষ্টা করছিল। বাবা এ নিয়ে অনেক লেখালেখি করেছিলেন নিজের পত্রিকায়। আমি যদি কোনো দিন খেতে বসে খাবার নষ্ট করার চেষ্টা করতাম, তাহলে মা আমাকে মনে করিয়ে দিতেন এশিয়া মহাদেশের এমন অনেক হতদরিদ্র মানুষের কথা, যারা কিনা খাবারের অভাবে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। তখন ছোট্ট আমি কিছুতেই বুঝতে পারতাম না যে আমি খাবার নষ্ট করলে ওই সব দুর্ভাগা মানুষের কী সমস্যা। অবশ্য বড় হয়ে যখন বুঝতে পেরেছি আসল সমস্যাটা, তখন চেষ্টা করেছি ওই সব হতভাগা মানুষের পাশে দাঁড়ানোর।
আজ আমাকে বিশ্ববাসী চেনে পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট জয়ের জন্য। কিন্তু সত্যি বলতে কি, মাউন্ট এভারেস্ট জয়ের পরে যে বিশ্ববাসীর এত ভালবাসা, সন্মান পাব, তা আমি কখনোই ভাবিনি। আর তার চাইতেও বড় কথা, আমি যে কোনো দিন এভারেস্ট জয় করব, সেটাই কখনো চিন্তা করিনি। এমনকি যখন আমি মাউন্ট এভারেস্টের পাদদেশ থেকে যাত্রা শুরু করি, তখনো আমি সংশয়ে ছিলাম এ ব্যাপারে। আমি জানতাম না, আসলে কোনো মানুষের পক্ষে আদৌ সম্ভব কিনা মাউন্ট এভারেস্ট জয় করা।
কৃত্রিম অক্সিজেন ব্যবহার করেও বরফে ঢাকা বিপৎসংকুল ২৯ হাজার ৩৫ ফুট উঁচু কোনো পর্বত পাড়ি দেওয়াটা কোনো সহজ কাজ ছিল না কখনোই। আর শুধু ওপরে উঠলেই তো হয়ে গেল না! ওপরে উঠে আবার নিচেও নেমে আসতে হবে ওই বিপৎসংকুল পথ পাড়ি দিয়ে। পৌঁছানোর মাত্র ৩০ ফুট আগেও জানতাম না চূড়ায় পা রাখতে পারব কিনা আদৌ! এমনো হতে পারত, হয়তো চূড়ায় পা রেখেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছি বা নেমে আসার সময় বরফের কোনো গুপ্ত ফাটলের নিচে সমাধি হতে পারত। পুরো অভিযান শেষে নিচে নেমে আসার আগ পর্যন্ত জানতাম না এটা কোনো মানুষের পক্ষে সম্ভব কি না। কিন্তু একটা কথা সত্য, আমি এক মুহূর্তের জন্যও মনোবল হারাইনি অভিযানের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত। আমি তো মনে করি, যেকোনো কাজ সফলভাবে করার জন্য যে জিনিসটা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তা হলো মনোবল। হ্যাঁ, এটা ঠিক যে শারীরিক সামর্থ্য, কারিগরি দক্ষতা, এমনিকি টাকা-পয়সারও প্রয়োজন রয়েছে অবশ্যই, কিন্তু সবচেয়ে বড় প্রয়োজনটা হলো মনের জোর। কঠোর মনোবল, দৃঢ় সংকল্প, প্রবল উৎসাহ ছাড়া কোনো কাজই ঠিকভাবে করা সম্ভব নয়। এটাই আসলে মূল পার্থক্য গড়ে দেয় একজন সাধারণ মানুষ আর একজন বিখ্যাত মানুষের মধ্যে।
ছোটবেলায় পড়া হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড, জর্জ হায়ারের বই পড়ে আমার সময় কাটত। আমি এসব বই পড়ে শক্তি পেতাম। আমার মনোবল শক্ত হয়েছে এভাবেই। আমি মনে করি, খুব বেশি মেধাবী হওয়ার দরকার নেই বিশেষ কিছু হওয়ার জন্য, বা বিখ্যাত হওয়ার জন্য। তরুণদের প্রতি আমার উপদেশ হলো, তোমরা সব সময় বড় কিছু চিন্তা কোরো। বড় কিছু পাওয়ার চেষ্টা কোরো। হয়তো একবারে পারবে না, দুবারেও পারবে না, কিন্তু একসময় বিজয় আসবেই। কোনো কাজ বারবার চেষ্টা করলে সেই কাজের ওপর আরও বেশি দখল আসে। সেই কাজ করা আরও বেশি সহজ হয়ে যায়। যেকোনো কিছু জয় করার সামর্থ্য রয়েছে তোমার। বিশেষ কিছু করতে হলে বিশেষ কোনো মানুষ হতে হবে, তা নয় মোটেও। আমি মনে করি, যে কারও পক্ষে সম্ভব যেকোনো অসম্ভবকে সম্ভব করা।
সূত্র: একাডেমি অব অ্যাচিভমেন্ট।
Steve Jobs (Apple)
চির তরুণ স্টিভ জবস
শুরুতে অ্যাপল কম্পিউটার দিয়ে স্টিভ জবস বিশ্ব মাত করেছিলেন। এরপর অ্যানিমেশন স্টুডিও পিকচার থেকে তৈরি করেন টয় স্টোরি, ফাইন্ডিং নিমোর মতো অসাধারণ সব অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র। আইপড ও আইফোনের কারণেও তাঁর সুনাম বেড়েছে বহুগুণ। তথ্যপ্রযুক্তির এই দিকপাল মৃত্যুবরণ করেন ৫ অক্টোবর।
স্টিভ জবস উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে পারেননি, কিন্তু আমন্ত্রিত হয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০৫ সালের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে।
প্রথমেই একটা সত্য কথা বলে নিই। আমি কখনোই বিশ্ববিদ্যালয় পাস করিনি। তাই সমাবর্তন জিনিসটাতেও আমার কখনো কোনো দিন উপস্থিত হওয়ার প্রয়োজন পড়েনি। এর চেয়ে বড় সত্য কথা হলো, আজকেই কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠান সবচেয়ে কাছে থেকে দেখছি আমি। তাই বিশ্বের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পেরে নিজেকে অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করছি। কোনো কথার ফুলঝুরি নয় আজ, স্রেফ তিনটা গল্প বলব আমি তোমাদের।
১. বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে এক সুতায় বাঁধার গল্প
রিড কলেজে ভর্তি হওয়ার ছয় মাসের মাথায়ই পড়ালেখায় ক্ষান্ত দিই আমি। আচ্ছা, কেন আমি বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়লাম?
এর শুরু আসলে আমার জন্মেরও আগে। আমার আসল মা ছিলেন একজন অবিবাহিত তরুণী। তিনি তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেন। আমার ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। তিনি সিদ্ধান্ত নেন, আমাকে কারও কাছে দত্তক দেবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোর শর্তে এক আইনজীবী দম্পতির হাতে আমাকে তুলে দেন তিনি।
এর ১৭ বছর পরের ঘটনা। তাঁরা আমাকে সত্যি সত্যিই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়েছিলেন। কিন্তু আমি বোকার মতো বেছে নিয়েছিলাম এমন এক বিশ্ববিদ্যালয়, যার পড়ালেখার খরচ প্রায় তোমাদের এই স্ট্যানফোর্ডের সমান। আমার দরিদ্র মা-বাবার সব জমানো টাকা আমার পড়ালেখার পেছনে চলে যাচ্ছিল। ছয় মাসের মাথায়ই আমি বুঝলাম, এর কোনো মানে হয় না। তাই আমি বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। সিদ্ধান্তটা ভয়াবহ মনে হলেও এখন আমি যখন পেছন ফিরে তাকাই, তখন মনে হয়, এটা আমার জীবনের অন্যতম সেরা সিদ্ধান্ত ছিল।
ডরমিটরিতে আমার কোনো রুম ছিল না, বন্ধুদের রুমের ফ্লোরে ঘুমোতাম। ব্যবহূত কোকের বোতল ফেরত দিয়ে আমি পাঁচ সেন্ট করে কামাই করতাম, যেটা দিয়ে খাবার কিনতাম। প্রতি রোববার রাতে আমি সাত মাইল হেঁটে হরেকৃষ্ণ মন্দিরে যেতাম শুধু একবেলা ভালো খাবার খাওয়ার জন্য। এটা আমার খুবই ভালো লাগত।
সে সময় রিড কলেজে সম্ভবত দেশের সেরা ক্যালিগ্রাফি শেখানো হতো। আমি যেহেতু আর স্বাভাবিক পড়ালেখার মধ্যে ছিলাম না, তাই যেকোনো কোর্সই চাইলে নিতে পারতাম। আমি ক্যালিগ্রাফি কোর্সে ভর্তি হয়ে গেলাম।
এ ক্যালিগ্রাফি জিনিসটা কোনো দিন বাস্তবজীবনে আমার কাজে আসবে—এটা কখনো ভাবিনি। কিন্তু ১০ বছর পর আমরা যখন আমাদের প্রথম ম্যাকিন্টোস কম্পিউটার ডিজাইন করি, তখন এর পুরো ব্যাপারটাই আমার কাজে লাগল। আমি যদি সেই ক্যালিগ্রাফি কোর্সটা না নিতাম, তাহলে ম্যাক কম্পিউটারে কখনো নানা রকম অক্ষর (টাইপফেইস) এবং আনুপাতিক দূরত্বের অক্ষর থাকত না। যেহেতু উইন্ডোজ ম্যাকের এই ফন্ট সরাসরি নকল করেছে, তাই বলা যায়, কোনো কম্পিউটারেই এ ধরনের ফন্ট থাকত না।
আমি যদি বিশ্ববিদ্যালয় না ছাড়তাম, তাহলে আমি কখনোই ওই ক্যালিগ্রাফি কোর্সে ভর্তি হতাম না এবং কম্পিউটারে হয়তো কখনো এত সুন্দর ফন্ট থাকত না। অবশ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা অবস্থায় এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে এক সুতায় বাঁধা অসম্ভব ছিল, কিন্তু ১০ বছর পর পেছনে তাকালে মনে হয়, এটা ছিল খুবই পরিষ্কার একটা বিষয়।
২. ভালোবাসা আর হারানোর গল্প
আমি খুব ভাগ্যবান ছিলাম। কারণ, জীবনের শুরুতেই আমি যা করতে ভালোবাসি, তা খুঁজে পেয়েছিলাম। আমার বয়স যখন ২০, তখন আমি আর ওজ দুজনে মিলে আমাদের বাড়ির গ্যারেজে অ্যাপল কোম্পানি শুরু করি। আমরা পরিশ্রম করেছিলাম অক্লান্ত, তাই তো দুজনের সেই কোম্পানি ১০ বছরের মাথায় চার হাজার কর্মচারীর দুই বিলিয়ন ডলারের কোম্পানিতে পরিণত হয়। আমার বয়স যখন ৩০, তখন আমরা আমাদের সেরা কম্পিউটার ম্যাকিন্টোস বাজারে ছেড়েছি। এর ঠিক এক বছর পরের ঘটনা। আমি অ্যাপল থেকে চাকরিচ্যুত হই। যে কোম্পানির মালিক তুমি নিজে, সেই কোম্পানি থেকে কীভাবে তোমার চাকরি চলে যায়? মজার হলেও আমার ক্ষেত্রে সেটা ঘটেছিল। প্রতিষ্ঠান হিসেবে অ্যাপল যখন বড় হতে লাগল, তখন কোম্পানিটি ভালোভাবে চালানোর জন্য এমন একজনকে নিয়োগ দিলাম, যে আমার সঙ্গে কাজ করবে। এক বছর ঠিকঠাকমতো কাটলেও এর পর থেকে তার সঙ্গে আমার মতের অমিল হতে শুরু করল। প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ তার পক্ষ নিলে আমি অ্যাপল থেকে বহিষ্কৃত হলাম এবং সেটা ছিল খুব ঢাকঢোল পিটিয়েই। তোমরা বুঝতেই পারছ, ঘটনাটা আমার জন্য কেমন হতাশার ছিল।
মনে হতো, ভ্যালি ছেড়ে পালিয়ে যাই। কিন্তু সেই সঙ্গে আরেকটা জিনিস আমি বুঝতে পারলাম, আমি যা করছিলাম, সেটাই আমি সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি। চাকরিচ্যুতির কারণে কাজের প্রতি আমার ভালোবাসা এক বিন্দুও কমেনি। তাই আমি আবার একেবারে গোড়া থেকে শুরু করার সিদ্ধান্ত নিলাম।
আমি অনেকটা নির্ভার হয়ে গেলাম, কোনো চাপ নেই, সফল হওয়ার জন্য বাড়াবাড়ি রকমের কৌশল নিয়ে ভাবার অবকাশ নেই। আমি প্রবেশ করলাম আমার জীবনের সবচেয়ে সৃজনশীল অংশে।
পরবর্তী পাঁচ বছরে নেক্সট ও পিকচার নামের দুটো কোম্পানি শুরু করি আমি, আর প্রেমে পড়ি এক অসাধারণ মেয়ের, যাকে পরে বিয়ে করি। পিকচার থেকে আমরা পৃথিবীর প্রথম কম্পিউটার অ্যানিমেশন ছবি টয় স্টোরি তৈরি করি, আর এখন তো পিকচারকে সবাই চেনে। পৃথিবীর সবচেয়ে সফল অ্যানিমেশন স্টুডিও। এরপর ঘটে কিছু চমকপ্রদ ঘটনা। অ্যাপল নেক্সটকে কিনে নেয় এবং আমি অ্যাপলে ফিরে আসি। আর লরেনের সঙ্গে চলতে থাকে আমার চমৎকার সংসারজীবন। আমি মোটামুটি নিশ্চিত, এগুলোর কিছুই ঘটত না, যদি না অ্যাপল থেকে আমি চাকরিচ্যুত হতাম।
৩. শেষ গল্পটির বিষয় মৃত্যু
আমার বয়স যখন ১৭ ছিল, তখন আমি একটা উদ্ধৃতি পড়েছিলাম, ‘তুুমি যদি প্রতিটি দিনকেই তোমার জীবনের শেষ দিন ভাব, তাহলে একদিন তুমি সত্যি সত্যিই সফল হবে।’ এ কথাটা আমার মনে গভীরভাবে রেখাপাত করেছিল এবং সেই থেকে গত ৩৩ বছর আমি প্রতিদিন সকালে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে জিজ্ঞেস করি, আজ যদি আমার জীবনের শেষ দিন হতো, তাহলে আমি কি যা যা করতে যাচ্ছি, আজ তা-ই করতাম, নাকি অন্য কিছু করতাম?
পৃথিবী ছেড়ে আমাকে একদিন চলে যেতে হবে, এ জিনিসটা মাথায় রাখার ব্যাপারটাই জীবনে আমাকে বড় সব সিদ্ধান্ত নিতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছে। কারণ, প্রায় সবকিছুই যেমন সব অতি প্রত্যাশা, সব গর্ব, সব লাজলজ্জা আর ব্যর্থতার গ্লানি—মৃত্যুর মুখে হঠাৎ করে সব নেই হয়ে যায়, টিকে থাকে শুধু সেটাই, যা সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ। তোমার কিছু হারানোর আছে—আমার জানা মতে, এ চিন্তা দূর করার সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে, সব সময় মনে রাখা যে একদিন তুমি মরে যাবে। তুমি খোলা বইয়ের মতো উন্মুক্ত হয়েই আছো। তাহলে কেন তুমি সেই পথে যাবে না, যে পথে তোমার মন তোমাকে যেতে বলছে?
প্রায় এক বছর আগের এক সকালে আমার ক্যানসার ধরা পড়ে। চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে, এর থেকে মুক্তির কোনো উপায় নেই। প্রায় নিশ্চিতভাবে অনারোগ্য এই ক্যানসারের কারণে তাঁরা আমার আয়ু বেঁধে দিলেন তিন থেকে ছয় মাস। উপদেশ দিলেন বাসায় ফিরে যেতে—যেটার সোজাসাপটা মানে দাঁড়ায়, বাসায় গিয়ে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হও। এমনভাবে জিনিসটাকে ম্যানেজ কোরো, যাতে পরিবারের সবার জন্য বিষয়টা যথাসম্ভব কম বেদনাদায়ক হয়।
সারা দিন পর সন্ধ্যায় আমার একটা বায়োপসি হলো। জানা গেল, আমার ক্যানসার যে অবস্থায় আছে, তা সার্জারির মাধ্যমে চিকিৎসা সম্ভব। আমার সেই সার্জারি হয়েছিল এবং দেখতেই পাচ্ছ, এখন আমি সুস্থ।
কেউই মরতে চায় না। এমনকি যারা স্বর্গে যেতে চায়, তারাও সেখানে যাওয়ার জন্য তাড়াতাড়ি মরতে চায় না। পুরোনোকে ঝেড়ে ফেলে মৃত্যু ‘এসেছে নতুন শিশু’র জন্য জায়গা করে দেয়। এই মুহূর্তে তোমরা হচ্ছ নতুন, কিন্তু খুব বেশি দিন দূরে নয়, যেদিন তোমরা পুরোনো হয়ে যাবে এবং তোমাদের ঝেড়ে ফেলে দেওয়া হবে। আমার অতি নাটুকেপনার জন্য দুঃখিত, কিন্তু এটাই আসল সত্য।
তোমাদের সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
প্রথমেই একটা সত্য কথা বলে নিই। আমি কখনোই বিশ্ববিদ্যালয় পাস করিনি। তাই সমাবর্তন জিনিসটাতেও আমার কখনো কোনো দিন উপস্থিত হওয়ার প্রয়োজন পড়েনি। এর চেয়ে বড় সত্য কথা হলো, আজকেই কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠান সবচেয়ে কাছে থেকে দেখছি আমি। তাই বিশ্বের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পেরে নিজেকে অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করছি। কোনো কথার ফুলঝুরি নয় আজ, স্রেফ তিনটা গল্প বলব আমি তোমাদের।
১. বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে এক সুতায় বাঁধার গল্প
রিড কলেজে ভর্তি হওয়ার ছয় মাসের মাথায়ই পড়ালেখায় ক্ষান্ত দিই আমি। আচ্ছা, কেন আমি বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়লাম?
এর শুরু আসলে আমার জন্মেরও আগে। আমার আসল মা ছিলেন একজন অবিবাহিত তরুণী। তিনি তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেন। আমার ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। তিনি সিদ্ধান্ত নেন, আমাকে কারও কাছে দত্তক দেবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোর শর্তে এক আইনজীবী দম্পতির হাতে আমাকে তুলে দেন তিনি।
এর ১৭ বছর পরের ঘটনা। তাঁরা আমাকে সত্যি সত্যিই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়েছিলেন। কিন্তু আমি বোকার মতো বেছে নিয়েছিলাম এমন এক বিশ্ববিদ্যালয়, যার পড়ালেখার খরচ প্রায় তোমাদের এই স্ট্যানফোর্ডের সমান। আমার দরিদ্র মা-বাবার সব জমানো টাকা আমার পড়ালেখার পেছনে চলে যাচ্ছিল। ছয় মাসের মাথায়ই আমি বুঝলাম, এর কোনো মানে হয় না। তাই আমি বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। সিদ্ধান্তটা ভয়াবহ মনে হলেও এখন আমি যখন পেছন ফিরে তাকাই, তখন মনে হয়, এটা আমার জীবনের অন্যতম সেরা সিদ্ধান্ত ছিল।
ডরমিটরিতে আমার কোনো রুম ছিল না, বন্ধুদের রুমের ফ্লোরে ঘুমোতাম। ব্যবহূত কোকের বোতল ফেরত দিয়ে আমি পাঁচ সেন্ট করে কামাই করতাম, যেটা দিয়ে খাবার কিনতাম। প্রতি রোববার রাতে আমি সাত মাইল হেঁটে হরেকৃষ্ণ মন্দিরে যেতাম শুধু একবেলা ভালো খাবার খাওয়ার জন্য। এটা আমার খুবই ভালো লাগত।
সে সময় রিড কলেজে সম্ভবত দেশের সেরা ক্যালিগ্রাফি শেখানো হতো। আমি যেহেতু আর স্বাভাবিক পড়ালেখার মধ্যে ছিলাম না, তাই যেকোনো কোর্সই চাইলে নিতে পারতাম। আমি ক্যালিগ্রাফি কোর্সে ভর্তি হয়ে গেলাম।
এ ক্যালিগ্রাফি জিনিসটা কোনো দিন বাস্তবজীবনে আমার কাজে আসবে—এটা কখনো ভাবিনি। কিন্তু ১০ বছর পর আমরা যখন আমাদের প্রথম ম্যাকিন্টোস কম্পিউটার ডিজাইন করি, তখন এর পুরো ব্যাপারটাই আমার কাজে লাগল। আমি যদি সেই ক্যালিগ্রাফি কোর্সটা না নিতাম, তাহলে ম্যাক কম্পিউটারে কখনো নানা রকম অক্ষর (টাইপফেইস) এবং আনুপাতিক দূরত্বের অক্ষর থাকত না। যেহেতু উইন্ডোজ ম্যাকের এই ফন্ট সরাসরি নকল করেছে, তাই বলা যায়, কোনো কম্পিউটারেই এ ধরনের ফন্ট থাকত না।
আমি যদি বিশ্ববিদ্যালয় না ছাড়তাম, তাহলে আমি কখনোই ওই ক্যালিগ্রাফি কোর্সে ভর্তি হতাম না এবং কম্পিউটারে হয়তো কখনো এত সুন্দর ফন্ট থাকত না। অবশ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা অবস্থায় এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে এক সুতায় বাঁধা অসম্ভব ছিল, কিন্তু ১০ বছর পর পেছনে তাকালে মনে হয়, এটা ছিল খুবই পরিষ্কার একটা বিষয়।
২. ভালোবাসা আর হারানোর গল্প
আমি খুব ভাগ্যবান ছিলাম। কারণ, জীবনের শুরুতেই আমি যা করতে ভালোবাসি, তা খুঁজে পেয়েছিলাম। আমার বয়স যখন ২০, তখন আমি আর ওজ দুজনে মিলে আমাদের বাড়ির গ্যারেজে অ্যাপল কোম্পানি শুরু করি। আমরা পরিশ্রম করেছিলাম অক্লান্ত, তাই তো দুজনের সেই কোম্পানি ১০ বছরের মাথায় চার হাজার কর্মচারীর দুই বিলিয়ন ডলারের কোম্পানিতে পরিণত হয়। আমার বয়স যখন ৩০, তখন আমরা আমাদের সেরা কম্পিউটার ম্যাকিন্টোস বাজারে ছেড়েছি। এর ঠিক এক বছর পরের ঘটনা। আমি অ্যাপল থেকে চাকরিচ্যুত হই। যে কোম্পানির মালিক তুমি নিজে, সেই কোম্পানি থেকে কীভাবে তোমার চাকরি চলে যায়? মজার হলেও আমার ক্ষেত্রে সেটা ঘটেছিল। প্রতিষ্ঠান হিসেবে অ্যাপল যখন বড় হতে লাগল, তখন কোম্পানিটি ভালোভাবে চালানোর জন্য এমন একজনকে নিয়োগ দিলাম, যে আমার সঙ্গে কাজ করবে। এক বছর ঠিকঠাকমতো কাটলেও এর পর থেকে তার সঙ্গে আমার মতের অমিল হতে শুরু করল। প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ তার পক্ষ নিলে আমি অ্যাপল থেকে বহিষ্কৃত হলাম এবং সেটা ছিল খুব ঢাকঢোল পিটিয়েই। তোমরা বুঝতেই পারছ, ঘটনাটা আমার জন্য কেমন হতাশার ছিল।
মনে হতো, ভ্যালি ছেড়ে পালিয়ে যাই। কিন্তু সেই সঙ্গে আরেকটা জিনিস আমি বুঝতে পারলাম, আমি যা করছিলাম, সেটাই আমি সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি। চাকরিচ্যুতির কারণে কাজের প্রতি আমার ভালোবাসা এক বিন্দুও কমেনি। তাই আমি আবার একেবারে গোড়া থেকে শুরু করার সিদ্ধান্ত নিলাম।
আমি অনেকটা নির্ভার হয়ে গেলাম, কোনো চাপ নেই, সফল হওয়ার জন্য বাড়াবাড়ি রকমের কৌশল নিয়ে ভাবার অবকাশ নেই। আমি প্রবেশ করলাম আমার জীবনের সবচেয়ে সৃজনশীল অংশে।
পরবর্তী পাঁচ বছরে নেক্সট ও পিকচার নামের দুটো কোম্পানি শুরু করি আমি, আর প্রেমে পড়ি এক অসাধারণ মেয়ের, যাকে পরে বিয়ে করি। পিকচার থেকে আমরা পৃথিবীর প্রথম কম্পিউটার অ্যানিমেশন ছবি টয় স্টোরি তৈরি করি, আর এখন তো পিকচারকে সবাই চেনে। পৃথিবীর সবচেয়ে সফল অ্যানিমেশন স্টুডিও। এরপর ঘটে কিছু চমকপ্রদ ঘটনা। অ্যাপল নেক্সটকে কিনে নেয় এবং আমি অ্যাপলে ফিরে আসি। আর লরেনের সঙ্গে চলতে থাকে আমার চমৎকার সংসারজীবন। আমি মোটামুটি নিশ্চিত, এগুলোর কিছুই ঘটত না, যদি না অ্যাপল থেকে আমি চাকরিচ্যুত হতাম।
৩. শেষ গল্পটির বিষয় মৃত্যু
আমার বয়স যখন ১৭ ছিল, তখন আমি একটা উদ্ধৃতি পড়েছিলাম, ‘তুুমি যদি প্রতিটি দিনকেই তোমার জীবনের শেষ দিন ভাব, তাহলে একদিন তুমি সত্যি সত্যিই সফল হবে।’ এ কথাটা আমার মনে গভীরভাবে রেখাপাত করেছিল এবং সেই থেকে গত ৩৩ বছর আমি প্রতিদিন সকালে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে জিজ্ঞেস করি, আজ যদি আমার জীবনের শেষ দিন হতো, তাহলে আমি কি যা যা করতে যাচ্ছি, আজ তা-ই করতাম, নাকি অন্য কিছু করতাম?
পৃথিবী ছেড়ে আমাকে একদিন চলে যেতে হবে, এ জিনিসটা মাথায় রাখার ব্যাপারটাই জীবনে আমাকে বড় সব সিদ্ধান্ত নিতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছে। কারণ, প্রায় সবকিছুই যেমন সব অতি প্রত্যাশা, সব গর্ব, সব লাজলজ্জা আর ব্যর্থতার গ্লানি—মৃত্যুর মুখে হঠাৎ করে সব নেই হয়ে যায়, টিকে থাকে শুধু সেটাই, যা সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ। তোমার কিছু হারানোর আছে—আমার জানা মতে, এ চিন্তা দূর করার সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে, সব সময় মনে রাখা যে একদিন তুমি মরে যাবে। তুমি খোলা বইয়ের মতো উন্মুক্ত হয়েই আছো। তাহলে কেন তুমি সেই পথে যাবে না, যে পথে তোমার মন তোমাকে যেতে বলছে?
প্রায় এক বছর আগের এক সকালে আমার ক্যানসার ধরা পড়ে। চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে, এর থেকে মুক্তির কোনো উপায় নেই। প্রায় নিশ্চিতভাবে অনারোগ্য এই ক্যানসারের কারণে তাঁরা আমার আয়ু বেঁধে দিলেন তিন থেকে ছয় মাস। উপদেশ দিলেন বাসায় ফিরে যেতে—যেটার সোজাসাপটা মানে দাঁড়ায়, বাসায় গিয়ে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হও। এমনভাবে জিনিসটাকে ম্যানেজ কোরো, যাতে পরিবারের সবার জন্য বিষয়টা যথাসম্ভব কম বেদনাদায়ক হয়।
সারা দিন পর সন্ধ্যায় আমার একটা বায়োপসি হলো। জানা গেল, আমার ক্যানসার যে অবস্থায় আছে, তা সার্জারির মাধ্যমে চিকিৎসা সম্ভব। আমার সেই সার্জারি হয়েছিল এবং দেখতেই পাচ্ছ, এখন আমি সুস্থ।
কেউই মরতে চায় না। এমনকি যারা স্বর্গে যেতে চায়, তারাও সেখানে যাওয়ার জন্য তাড়াতাড়ি মরতে চায় না। পুরোনোকে ঝেড়ে ফেলে মৃত্যু ‘এসেছে নতুন শিশু’র জন্য জায়গা করে দেয়। এই মুহূর্তে তোমরা হচ্ছ নতুন, কিন্তু খুব বেশি দিন দূরে নয়, যেদিন তোমরা পুরোনো হয়ে যাবে এবং তোমাদের ঝেড়ে ফেলে দেওয়া হবে। আমার অতি নাটুকেপনার জন্য দুঃখিত, কিন্তু এটাই আসল সত্য।
তোমাদের সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
পৃথিবীর অন্যসব মানুষের তুলনায় স্টিভ জবস বেঁচে ছিলেন কম সময়। মাত্র ৫৬ বছর।
জবস পাল্টে দিয়েছেন মানবসভ্যতার তিনটি ‘C’—কীভাবে মানুষ ‘Connect’, ‘Communicate’ ও ‘Consume’ করে। অথচ টাকা-পয়সার অভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে পারেননি। আরেক স্টিভ, স্টিভ ওজনিয়াকের সঙ্গে মিলে প্রতিষ্ঠা করেন অ্যাপল ইনকরপোরেট!
ঢাকার আগারগাঁওয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরে পুরোনো দিনের মেইন ফ্রেম কম্পিউটার দেখা যায়। ঢাউস কম্পিউটারগুলো দেখলে বোঝা যায়, একসময় কম্পিউটার কেমন ছিল! আর এখন তো আমাদের পকেটেই কম্পিউটার থাকে! সাভারের পরমাণু শক্তি কমিশনে এই অঞ্চলের প্রথম কম্পিউটারটি বসানো হয়েছিল সেই ষাটের দশকে। সেটির আকার ছিল একটি কক্ষের সমান।
অ্যাপল কম্পিউটার শুরু করার পর স্টিভ জবসের কাজ ছিল বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানে ঘুরে বেড়ানো। পলো আলটোতে জেরক্স কোম্পানির একটি গবেষণাগারে জবস প্রথম এমন একটা বস্তু দেখেন, যা এখন মাউস নামে পরিচিত। দৃষ্টির সীমানা ছাড়িয়ে অনেক দূর দেখতে পাওয়া মানুষটি সঙ্গে সঙ্গে বুঝতে পারেন, এই ছোট্ট যন্ত্র এবং এর সঙ্গে কম্পিউটারের পর্দায় ছবি দিতে পারলেই সাধারণ মানুষ কম্পিউটার ব্যবহার করতে পারবে। সেটি ছিল ম্যাকিন্টোশ কম্পিউটারের চিন্তা। ১৯৮৪ সালের জানুয়ারি মাসে পর্দায় ছবি আর মাউস নিয়ে ম্যাকের আবির্ভাবের পর থেকে পাল্টে গেছে কম্পিউটারের জগৎ।
সব মুদ্রারই অপর পিঠ থাকে। ১৯৮৫ সালে ছেড়ে দিতে হয় অ্যাপল। একটি রেখে অ্যাপলের সব শেয়ার বিক্রি করে দেন তিনি। হাতে ২০ কোটি ডলার নিয়ে শুরু করেন নতুন যাত্রা—নেক্সট নামের একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন, যার লক্ষ্য হলো নতুন প্রজন্মের অপারেটিং সিস্টেম বানানো। জবসের উদ্দেশ্য ছিল, কম্পিউটারকে নানা রকম অনুষঙ্গের সঙ্গে যুক্ত করা, যাতে মানুষে মানুষে সংযুক্তি আর যোগাযোগ হয় সহজসাধ্য এবং সর্বজনীন। সে সময় আকস্মিকভাবে তিনি যুক্ত হন পিকচার নামের একটি অ্যানিমেশন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। জবসের হাত ধরে পিকচার থেকে সূচিত হয় অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র। এখানে তাঁর ভূমিকা ছিল একজন উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীর। কিন্তু তাঁর স্বভাবসুলভ গভীরে ঢোকার বৈশিষ্ট্যই পিকচারের কর্মীদের অনুপ্রাণিত করে অনেকখানি। সে কারণে টয় স্টোরির গল্প শুধু গল্পই থাকে না, হয়ে ওঠে চলচ্চিত্রের বাঁকবদলের ক্ষণ।
অন্যদিকে নেক্সটের ফলাফল নিয়ে ১৯৯৭ সালে প্রবলভাবে অ্যাপলে ফিরে আসেন জবস। শুরু হয় অ্যাপলের নবযাত্রা। আইম্যাক, আইপড, আইফোন কিংবা আইপ্যাড—সবটাতেই আমরা জবসের কয়েকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য দেখতে পাই। প্রথমটি হলো অতৃপ্তি! জবস সব সময় একটি সম্পূর্ণ পণ্য তৈরি করতে চান। শুরু থেকে জবসের গভীরে ঢোকার অভ্যাস ছিল। সেটিই পূর্ণতা পায় দ্বিতীয়বার অ্যাপলে এসে।
জবসের আরেকটি বৈশিষ্ট্য ছিল—ব্যবহারকারীর হাত আর চোখ দিয়ে পণ্যকে বিচার করা। এ কারণে সব ধরনের নতুন পণ্য তিনি ব্যবহার করতেন। ভাবতেন, কীভাবে বিষয়গুলো আরও সহজ করা যায়। আইফোনে যদি কোনো সুইচ না থাকত, তাহলে তিনি সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন। কিন্তু প্রকৌশলীরা তাঁকে বুঝিয়েছেন, কমপক্ষে একটি সুইচ বা বাটন থাকা অপরিহার্য।
অ্যাপল স্টোর চালুর পর ইকোনমিস্ট পত্রিকায় শিরোনাম করে, ‘দুঃখিত স্টিভ। তোমার ম্যাজিক এখানে কাজে লাগবে না।’ কিন্তু দেখা যাচ্ছে, সরাসরি ভোক্তার কাছে পৌঁছানোয় স্টিভ ম্যাজিক অনেক বেশি মাইলেজ দিয়েছে অ্যাপলকে। গ্যারেজ থেকে উঠে আসা অ্যাপল ইনকরপোরেটেড বাজার মূলধন এখন ইন্টেল আর মাইক্রোসফটের সম্মিলিত বাজার মূলধনের চেয়ে বেশি। বিশ্বব্যাপী অ্যাপলের রয়েছে কয়েক লাখ কর্মী। কিন্তু এর চেয়েও বড় কথা, অ্যাপল তার মিউজিক স্টোরের মাধ্যমে বিশ্বের হাজার হাজার তরুণ-তরুণী এখন নিজেদের দিন বদলের রাস্তা খুঁজে নিচ্ছেন।
স্টিভ জবসের জন্ম না হলে আমাদের মতো তৃতীয় বিশ্বের বাসিন্দাদের অনেকেরই কিন্তু কম্পিউটার ব্যবহার করা সম্ভব হতো না!
জবস পাল্টে দিয়েছেন মানবসভ্যতার তিনটি ‘C’—কীভাবে মানুষ ‘Connect’, ‘Communicate’ ও ‘Consume’ করে। অথচ টাকা-পয়সার অভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে পারেননি। আরেক স্টিভ, স্টিভ ওজনিয়াকের সঙ্গে মিলে প্রতিষ্ঠা করেন অ্যাপল ইনকরপোরেট!
ঢাকার আগারগাঁওয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরে পুরোনো দিনের মেইন ফ্রেম কম্পিউটার দেখা যায়। ঢাউস কম্পিউটারগুলো দেখলে বোঝা যায়, একসময় কম্পিউটার কেমন ছিল! আর এখন তো আমাদের পকেটেই কম্পিউটার থাকে! সাভারের পরমাণু শক্তি কমিশনে এই অঞ্চলের প্রথম কম্পিউটারটি বসানো হয়েছিল সেই ষাটের দশকে। সেটির আকার ছিল একটি কক্ষের সমান।
অ্যাপল কম্পিউটার শুরু করার পর স্টিভ জবসের কাজ ছিল বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানে ঘুরে বেড়ানো। পলো আলটোতে জেরক্স কোম্পানির একটি গবেষণাগারে জবস প্রথম এমন একটা বস্তু দেখেন, যা এখন মাউস নামে পরিচিত। দৃষ্টির সীমানা ছাড়িয়ে অনেক দূর দেখতে পাওয়া মানুষটি সঙ্গে সঙ্গে বুঝতে পারেন, এই ছোট্ট যন্ত্র এবং এর সঙ্গে কম্পিউটারের পর্দায় ছবি দিতে পারলেই সাধারণ মানুষ কম্পিউটার ব্যবহার করতে পারবে। সেটি ছিল ম্যাকিন্টোশ কম্পিউটারের চিন্তা। ১৯৮৪ সালের জানুয়ারি মাসে পর্দায় ছবি আর মাউস নিয়ে ম্যাকের আবির্ভাবের পর থেকে পাল্টে গেছে কম্পিউটারের জগৎ।
সব মুদ্রারই অপর পিঠ থাকে। ১৯৮৫ সালে ছেড়ে দিতে হয় অ্যাপল। একটি রেখে অ্যাপলের সব শেয়ার বিক্রি করে দেন তিনি। হাতে ২০ কোটি ডলার নিয়ে শুরু করেন নতুন যাত্রা—নেক্সট নামের একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন, যার লক্ষ্য হলো নতুন প্রজন্মের অপারেটিং সিস্টেম বানানো। জবসের উদ্দেশ্য ছিল, কম্পিউটারকে নানা রকম অনুষঙ্গের সঙ্গে যুক্ত করা, যাতে মানুষে মানুষে সংযুক্তি আর যোগাযোগ হয় সহজসাধ্য এবং সর্বজনীন। সে সময় আকস্মিকভাবে তিনি যুক্ত হন পিকচার নামের একটি অ্যানিমেশন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। জবসের হাত ধরে পিকচার থেকে সূচিত হয় অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র। এখানে তাঁর ভূমিকা ছিল একজন উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীর। কিন্তু তাঁর স্বভাবসুলভ গভীরে ঢোকার বৈশিষ্ট্যই পিকচারের কর্মীদের অনুপ্রাণিত করে অনেকখানি। সে কারণে টয় স্টোরির গল্প শুধু গল্পই থাকে না, হয়ে ওঠে চলচ্চিত্রের বাঁকবদলের ক্ষণ।
অন্যদিকে নেক্সটের ফলাফল নিয়ে ১৯৯৭ সালে প্রবলভাবে অ্যাপলে ফিরে আসেন জবস। শুরু হয় অ্যাপলের নবযাত্রা। আইম্যাক, আইপড, আইফোন কিংবা আইপ্যাড—সবটাতেই আমরা জবসের কয়েকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য দেখতে পাই। প্রথমটি হলো অতৃপ্তি! জবস সব সময় একটি সম্পূর্ণ পণ্য তৈরি করতে চান। শুরু থেকে জবসের গভীরে ঢোকার অভ্যাস ছিল। সেটিই পূর্ণতা পায় দ্বিতীয়বার অ্যাপলে এসে।
জবসের আরেকটি বৈশিষ্ট্য ছিল—ব্যবহারকারীর হাত আর চোখ দিয়ে পণ্যকে বিচার করা। এ কারণে সব ধরনের নতুন পণ্য তিনি ব্যবহার করতেন। ভাবতেন, কীভাবে বিষয়গুলো আরও সহজ করা যায়। আইফোনে যদি কোনো সুইচ না থাকত, তাহলে তিনি সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন। কিন্তু প্রকৌশলীরা তাঁকে বুঝিয়েছেন, কমপক্ষে একটি সুইচ বা বাটন থাকা অপরিহার্য।
অ্যাপল স্টোর চালুর পর ইকোনমিস্ট পত্রিকায় শিরোনাম করে, ‘দুঃখিত স্টিভ। তোমার ম্যাজিক এখানে কাজে লাগবে না।’ কিন্তু দেখা যাচ্ছে, সরাসরি ভোক্তার কাছে পৌঁছানোয় স্টিভ ম্যাজিক অনেক বেশি মাইলেজ দিয়েছে অ্যাপলকে। গ্যারেজ থেকে উঠে আসা অ্যাপল ইনকরপোরেটেড বাজার মূলধন এখন ইন্টেল আর মাইক্রোসফটের সম্মিলিত বাজার মূলধনের চেয়ে বেশি। বিশ্বব্যাপী অ্যাপলের রয়েছে কয়েক লাখ কর্মী। কিন্তু এর চেয়েও বড় কথা, অ্যাপল তার মিউজিক স্টোরের মাধ্যমে বিশ্বের হাজার হাজার তরুণ-তরুণী এখন নিজেদের দিন বদলের রাস্তা খুঁজে নিচ্ছেন।
স্টিভ জবসের জন্ম না হলে আমাদের মতো তৃতীয় বিশ্বের বাসিন্দাদের অনেকেরই কিন্তু কম্পিউটার ব্যবহার করা সম্ভব হতো না!
Vind Carfe ( Internet inventor )
ভিন্ট কার্ফকে বলা হয়ে থাকে ইন্টারনেটের উদ্ভাবক। কম্পিউটার বিজ্ঞানী ভিন্ট কার্ফ ১৯৪৩ সালের ২৩ জুন যুক্তরাষ্ট্রের কানিক্টিকাটে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৯৯ সালের ৭ এপ্রিল, ইন্টারনেট সোসাইটির চেয়ারম্যান হিসেবে ‘স্পিচ টু কম্পিউটারস, ফ্রিডম অ্যান্ড প্রাইভেসি কনফারেন্স’-এ তিনি এই বক্তব্য দেন।
ইন্টারনেট সবার জন্য। কথাটা বলা আসলে যতটা সহজ, কিন্তু এটাকে বাস্তবে রূপ দেওয়া ঠিক ততটা সহজ নয়। সবার আগে বুঝতে হবে এই লক্ষ্যে আমরা কত দূর এগিয়েছি।
সামনের দিনগুলোতে হয়তো ইন্টারনেটের অনেক চাহিদা তৈরি হবে টেলিভিশন চ্যানেল, রেডিও, সংবাদপত্র থেকে শুরু করে সব গণমাধ্যমে। তখন তথ্য আর শুধু কিছু মানুষের হাতের নাগালে থাকবে না, সবার কাছে সব তথ্য পৌঁছে যাবে নিমেষেই। ইন্টারনেট কোনো তথ্য বা সাধারণ কোনো বার্তাকে যেভাবে সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারে আর কোনো মাধ্যমে সেটা সম্ভব নয়। ইন্টারনেট আসলে কাজ করে মেগা ফোনের মতো, প্রয়োজনমতো সামান্য শব্দও ছড়িয়ে দিতে পারে ব্যাপক আকারে।
গণতন্ত্র চর্চাকে আরও বেশি বিকশিত করছে ইন্টারনেট। ইন্টারনেটের মাধ্যমে ভোটও দেওয়া সম্ভব এখন। সামাজিকতাকেও নতুন মাত্রা দিয়েছে ইন্টারনেট। ইন্টারনেটের মাধ্যমে মানুষ নিজের জ্ঞান ছড়িয়ে দিতে পারছে সারা বিশ্বে, গবেষণার জন্য যা খুব বেশি জরুরি। ইন্টারনেট আজ পৃথিবী ছাড়িয়ে পাড়ি জমিয়েছে অন্তরিক্ষে। নাসা ল্যাবরেটরিতে মঙ্গল অভিযানের বাহন নিয়ে কাজ চলছে। এই কাজ ইন্টারনেট ছাড়া সম্ভব নয়।
সবার জন্য ইন্টারনেট- তত দিন পর্যন্ত সম্ভব নয়, যত দিন না আমরা ইন্টারনেট ব্যবহারের খরচ কমাতে পারব। কারণ ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে খরচ একটা অনেক বড় বাধা। সে জন্য আমাদের সবাইকে একসঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করতে হবে ইন্টারনেটের খরচ কমিয়ে আনার জন্য।
সবার জন্য ইন্টারনেট- এটা শুধু তখনই সম্ভব যখন সব দেশের সরকার এই ইন্টারনেটের ব্যবহারের ওপর থেকে সব ধরনের আইনি বাধা তুলে নেবে। ইন্টারনেট হবে নিরবচ্ছিন্ন ও বাধামুক্ত। মানুষ হিসেবে আমাদের সবার কথা বলার ও কথা শোনার পূর্ণ স্বাধীনতা থাকতে হবে।
সবার জন্য ইন্টারনেট- সম্ভব হবে না যদি আমরা এর ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে না উঠতে পারি। এ জন্য ইন্টারনেট সেবাদাতাদের আরও সচেতন হতে হবে দ্রুত কারিগরি উন্নয়নের জন্য। এ জন্য ইন্টারনেট আর্কিটেকচার বোর্ড, ইন্টারনেট ইঞ্জিনিয়ারিং স্টিয়ারিং গ্রুপ, ইন্টারনেট রিসার্চ টাস্কফোর্স এবং ইন্টারনেট ইঞ্জিনিয়ারিং টাস্কফোর্সকে আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করতে হবে সবাইকে।
সবার জন্য ইন্টারনেট- বাস্তব রূপ পাবে না যতক্ষণ না সারা বিশ্বের মানুষের ঘরে ঘরে, সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা পৌঁছবে। আমি স্বপ্ন দেখি, এমন একটা দিন আসবে যেদিন কোনো বাধা ছাড়াই যেকোনো সময়, যে কেউ, পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে, যেকোনো ভাষায় ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবে।
সবার জন্য ইন্টারনেট- এই প্রয়াস ব্যর্থ হবে যদি না ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা নিজেদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন না হয়। ইন্টারনেটে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়টা সবাইকে জানতে হবে। নিরাপদ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ইন্টারনেটের ব্যবহার এবং ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করতে হবে। প্রযুক্তিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে যেন প্রযুক্তির মাধ্যমেই ইন্টারনেটের ব্যবহার নিরাপদ ও ঝঞ্ঝাটমুক্ত করা যায়। ইন্টারনেটকে এই স্থানে নিয়ে যেতে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
সবার জন্য ইন্টারনেট- তখন পর্যন্ত সম্ভব নয় যতক্ষণ পর্যন্ত না অভিভাবক ও শিক্ষকেরা নিজেরা যথেষ্ট সচেতন হচ্ছেন এর যাবতীয় ব্যবহার সম্পর্কে। অভিভাবক ও শিক্ষকদের জানতে হবে ইন্টারনেটের সীমাহীন বিশাল জগতের সব কিছুই কিন্তু শিশুদের জন্য নিরাপদ নয়। এমন অনেক কিছুই থাকতে পারে ইন্টারনেটে যা কিনা শিশুর জন্য মোটেই উপযোগী নয়। শিশুদের অনুপযোগী বিষয়গুলো যেন শিশুরা ব্যবহার না করে সে ব্যাপারে সবাইকে সচেষ্ট থাকতে হবে। শিশুদের জন্য যেকোনো ধরনের শঙ্কামুক্ত, নিরাপদ ইন্টারনেট জগৎ গড়ে তোলার দায়িত্ব আমাদের সবার।
সবার জন্য ইন্টারনেট- বাস্তব করতে হলে আমাদের আরও অনেক বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে। ইন্টারনেটকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সম্পদের মতো করে চিন্তা করতে হবে। আমরা যেমন নিজের সম্পদ রক্ষায় সচেষ্ট থাকি, ঠিক তেমনটিই করতে হবে ইন্টারনেটের ক্ষেত্রেও। এমন কিছু মানুষ আছে যারা ইন্টারনেটের অপব্যবহার করতে চেষ্টা করে সব সময়। তারা ইন্টারনেট অপব্যবহার করে আমাদের বিভিন্নভাবে বিপদে ফেলার চেষ্টা করে। তাদের বিরুদ্ধে আমাদের একজোট হতে হবে। আমাদের এমন একটা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে যেন আমরা সে সব দুষ্কৃতকারীদের সহজেই শাস্তির আওতায় আনতে পারি।
আমি আশা করি সারা দুনিয়ার সব ইন্টারনেট ব্যবহারকারীই বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট ছড়িয়ে দেওয়ার মিশনে ইন্টারনেট সোসাইটি এবং এ ধরনের অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে যোগ দেবেন। নতুন দিনের আমাদের সব কাজের বাহন হবে ইন্টারনেট। এর চেয়ে দারুণ আর কী হতে পারে বলুন!
তবে মনে রাখবেন, সবার জন্য ইন্টারনেট— তত দিন পর্যন্ত সম্ভব হবে না, যত দিন না আমরা নিজেরা এটাকে সম্ভব করব।
সূত্র: ওয়েবসাইট, ইংরেজি থেকে সংক্ষেপিত
ইন্টারনেট সবার জন্য। কথাটা বলা আসলে যতটা সহজ, কিন্তু এটাকে বাস্তবে রূপ দেওয়া ঠিক ততটা সহজ নয়। সবার আগে বুঝতে হবে এই লক্ষ্যে আমরা কত দূর এগিয়েছি।
সামনের দিনগুলোতে হয়তো ইন্টারনেটের অনেক চাহিদা তৈরি হবে টেলিভিশন চ্যানেল, রেডিও, সংবাদপত্র থেকে শুরু করে সব গণমাধ্যমে। তখন তথ্য আর শুধু কিছু মানুষের হাতের নাগালে থাকবে না, সবার কাছে সব তথ্য পৌঁছে যাবে নিমেষেই। ইন্টারনেট কোনো তথ্য বা সাধারণ কোনো বার্তাকে যেভাবে সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারে আর কোনো মাধ্যমে সেটা সম্ভব নয়। ইন্টারনেট আসলে কাজ করে মেগা ফোনের মতো, প্রয়োজনমতো সামান্য শব্দও ছড়িয়ে দিতে পারে ব্যাপক আকারে।
গণতন্ত্র চর্চাকে আরও বেশি বিকশিত করছে ইন্টারনেট। ইন্টারনেটের মাধ্যমে ভোটও দেওয়া সম্ভব এখন। সামাজিকতাকেও নতুন মাত্রা দিয়েছে ইন্টারনেট। ইন্টারনেটের মাধ্যমে মানুষ নিজের জ্ঞান ছড়িয়ে দিতে পারছে সারা বিশ্বে, গবেষণার জন্য যা খুব বেশি জরুরি। ইন্টারনেট আজ পৃথিবী ছাড়িয়ে পাড়ি জমিয়েছে অন্তরিক্ষে। নাসা ল্যাবরেটরিতে মঙ্গল অভিযানের বাহন নিয়ে কাজ চলছে। এই কাজ ইন্টারনেট ছাড়া সম্ভব নয়।
সবার জন্য ইন্টারনেট- তত দিন পর্যন্ত সম্ভব নয়, যত দিন না আমরা ইন্টারনেট ব্যবহারের খরচ কমাতে পারব। কারণ ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে খরচ একটা অনেক বড় বাধা। সে জন্য আমাদের সবাইকে একসঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করতে হবে ইন্টারনেটের খরচ কমিয়ে আনার জন্য।
সবার জন্য ইন্টারনেট- এটা শুধু তখনই সম্ভব যখন সব দেশের সরকার এই ইন্টারনেটের ব্যবহারের ওপর থেকে সব ধরনের আইনি বাধা তুলে নেবে। ইন্টারনেট হবে নিরবচ্ছিন্ন ও বাধামুক্ত। মানুষ হিসেবে আমাদের সবার কথা বলার ও কথা শোনার পূর্ণ স্বাধীনতা থাকতে হবে।
সবার জন্য ইন্টারনেট- সম্ভব হবে না যদি আমরা এর ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে না উঠতে পারি। এ জন্য ইন্টারনেট সেবাদাতাদের আরও সচেতন হতে হবে দ্রুত কারিগরি উন্নয়নের জন্য। এ জন্য ইন্টারনেট আর্কিটেকচার বোর্ড, ইন্টারনেট ইঞ্জিনিয়ারিং স্টিয়ারিং গ্রুপ, ইন্টারনেট রিসার্চ টাস্কফোর্স এবং ইন্টারনেট ইঞ্জিনিয়ারিং টাস্কফোর্সকে আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করতে হবে সবাইকে।
সবার জন্য ইন্টারনেট- বাস্তব রূপ পাবে না যতক্ষণ না সারা বিশ্বের মানুষের ঘরে ঘরে, সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা পৌঁছবে। আমি স্বপ্ন দেখি, এমন একটা দিন আসবে যেদিন কোনো বাধা ছাড়াই যেকোনো সময়, যে কেউ, পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে, যেকোনো ভাষায় ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবে।
সবার জন্য ইন্টারনেট- এই প্রয়াস ব্যর্থ হবে যদি না ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা নিজেদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন না হয়। ইন্টারনেটে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়টা সবাইকে জানতে হবে। নিরাপদ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ইন্টারনেটের ব্যবহার এবং ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করতে হবে। প্রযুক্তিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে যেন প্রযুক্তির মাধ্যমেই ইন্টারনেটের ব্যবহার নিরাপদ ও ঝঞ্ঝাটমুক্ত করা যায়। ইন্টারনেটকে এই স্থানে নিয়ে যেতে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
সবার জন্য ইন্টারনেট- তখন পর্যন্ত সম্ভব নয় যতক্ষণ পর্যন্ত না অভিভাবক ও শিক্ষকেরা নিজেরা যথেষ্ট সচেতন হচ্ছেন এর যাবতীয় ব্যবহার সম্পর্কে। অভিভাবক ও শিক্ষকদের জানতে হবে ইন্টারনেটের সীমাহীন বিশাল জগতের সব কিছুই কিন্তু শিশুদের জন্য নিরাপদ নয়। এমন অনেক কিছুই থাকতে পারে ইন্টারনেটে যা কিনা শিশুর জন্য মোটেই উপযোগী নয়। শিশুদের অনুপযোগী বিষয়গুলো যেন শিশুরা ব্যবহার না করে সে ব্যাপারে সবাইকে সচেষ্ট থাকতে হবে। শিশুদের জন্য যেকোনো ধরনের শঙ্কামুক্ত, নিরাপদ ইন্টারনেট জগৎ গড়ে তোলার দায়িত্ব আমাদের সবার।
সবার জন্য ইন্টারনেট- বাস্তব করতে হলে আমাদের আরও অনেক বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে। ইন্টারনেটকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সম্পদের মতো করে চিন্তা করতে হবে। আমরা যেমন নিজের সম্পদ রক্ষায় সচেষ্ট থাকি, ঠিক তেমনটিই করতে হবে ইন্টারনেটের ক্ষেত্রেও। এমন কিছু মানুষ আছে যারা ইন্টারনেটের অপব্যবহার করতে চেষ্টা করে সব সময়। তারা ইন্টারনেট অপব্যবহার করে আমাদের বিভিন্নভাবে বিপদে ফেলার চেষ্টা করে। তাদের বিরুদ্ধে আমাদের একজোট হতে হবে। আমাদের এমন একটা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে যেন আমরা সে সব দুষ্কৃতকারীদের সহজেই শাস্তির আওতায় আনতে পারি।
আমি আশা করি সারা দুনিয়ার সব ইন্টারনেট ব্যবহারকারীই বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট ছড়িয়ে দেওয়ার মিশনে ইন্টারনেট সোসাইটি এবং এ ধরনের অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে যোগ দেবেন। নতুন দিনের আমাদের সব কাজের বাহন হবে ইন্টারনেট। এর চেয়ে দারুণ আর কী হতে পারে বলুন!
তবে মনে রাখবেন, সবার জন্য ইন্টারনেট— তত দিন পর্যন্ত সম্ভব হবে না, যত দিন না আমরা নিজেরা এটাকে সম্ভব করব।
সূত্র: ওয়েবসাইট, ইংরেজি থেকে সংক্ষেপিত
Bangladesh University of Engineering and Technology (BUET)
বুয়েট উনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে জরিপকারদের জন্য একটি জরিপ শিক্ষালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। বুয়েট শুরুতে ঢাকা সার্ভে স্কুল নামে প্রতিষ্ঠিত হয় নলগোলায়, ১৮৭৬ সালে। এসময় ব্রিটিশ ভারত সরকার কাজের সুবিধার জন্য জরিপকারদের এই শিক্ষালয় প্রতিষ্ঠা করে। ১৯০৫ সালে ঢাকার তৎকালীন খাজা আহসানউল্লাহ এ বিদ্যালয়ের প্রতি আগ্রহী হন এবং মুসলমানদের শিক্ষাদীক্ষার অগ্রগতির জন্য বিদ্যালয়ে ১.১২ লক্ষ টাকা দান করেন। তাঁর মহৎ অনুদানে এটি পরবর্তীতে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষালয় হিসেবে প্রসার লাভ করে এবং তাঁর স্বীকৃতি হিসেবে ১৯০৮ সালে বিদ্যায়নটির নামকরণ করা হয় আহসানউল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুল নামে। আহসানউল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুল তিন বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা কোর্স দিতে শুরু করে পুরকৌশল, তড়িৎকৌশল এবং যন্ত্রকৌশল বিভাগে। শুরুতে একটি ভাড়া করা ভবনে বিদ্যালয়টির কার্যক্রম চলত। ১৯০৬ সালে সরকারী উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হলের কাছে এর নিজস্ব ভবন নির্মিত হয়। এস্থানের একটি উচুঁ চিমনি কিছুদিন আগেও এই স্মৃতি বহন করত। ১৯২০ সালে এটি বর্তমান অবস্থানে স্থানান্তরিত হয়।
শুরুতে বিদ্যালয়টি ঢাকা কলেজের সাথে সংযুক্ত ছিল। পরবর্তীতে এটি জনশিক্ষা পরিচালকের অধীনে পরিচালিত হতে থাকে। মিঃ এন্ডারসন এর প্রথম অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন। এরপর ১৯৩২ সালে শ্রী বি. সি. গুপ্ত ও ১৯৩৮ সালে জনাব হাকিম আলী অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বাংলার শিল্পায়নের জন্য তৎকালীন সরকার ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করে। তখন এতদঞ্চলে দক্ষ জনশক্তির অভাব দেখা দেয়। তৎকালীন সরকার নিযুক্ত একটি কমিটি যন্ত্র, তড়িৎ, কেমি ও কৃষি প্রকৌশলে ৮ বছর মেয়াদী ডিগ্রী কোর্সে ১২০ জন ছাত্রের জন্য ঢাকায় একটি প্রকৌশল কলেজ স্থাপন এবং স্কুলটিকে তৎকালীন পলাশী ব্যারাকে স্থানান্তর করে পুর, যন্ত্র, ও তড়িৎ কৌশলে ৩ বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা কোর্সে ৪৮০ জন ছাত্র ভর্তির সুপারিশ করেন। ১৯৪৭ সালের মে মাসে সরকার ঢাকায় একটি প্রকৌশল কলেজ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেন ও ছাত্র ভর্তির জন্য বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের শিবপুরস্থ বেঙ্গল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ও ঢাকায় আহসানউল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুলে পরীক্ষা নেয়া হয়।
দেশ বিভাগের পর
১৯৪৭ এর দেশবিভাগের ফলে আহসানউল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুলের মুষ্টিমেয় কয়েকজন শিক্ষক ছাড়া বাকী শিক্ষকদের সবাই ভারতে চলে যান ও ভারত থেকে ৫ জন শিক্ষক এ স্কুলে যোগদান করেন। ১৯৪৭ এর আগস্ট মাসে এটিকে আহসানউল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ রুপে উন্নীত করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদ হিসেবে। জনাব হাকিম আলী এর অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন।
১৯৪৮ সালের ফেব্রুয়ারীতে তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তান সরকার এই কলেজটিকে অনুমোদন দেন এবং এটি তখন পুর প্রকৌশল, তড়িৎ প্রকৌশল, যন্ত্র প্রকৌশল, কেমি কৌশল, কৃষি প্রকৌশল ও টেক্সটাইল প্রকৌশল বিভাগে চার বছর মেয়াদী ব্যাচেলর ডিগ্রী এবং পুর প্রকৌশল, তড়িৎ প্রকৌশল ও যন্ত্র প্রকৌশল বিভাগে তিন বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা প্রদান করতে শুরু করে। তবে শেষ পর্যন্ত কৃষি ও টেক্সটাইলের পরিবর্তে ধাতব প্রকৌশল অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৯৫৬ সালে কলেজে সেমিস্টার প্রথা চালু হয় ও নতুন পাঠ্যক্রম অনুমোদিত হয়। ১৯৫৭ সালে ডিগ্রী কোর্সে আসন সংখ্যা ১২০ থেকে বাড়িয়ে ২৪০ করা হয়। ১৯৫৮ সালে কলেজ থেকে ডিপ্লোমা কোর্স বন্ধ করে দেয়া হয়।
এর মধ্যে ১৯৫১ সালে টি. এইচ. ম্যাথুম্যান এবং ১৯৫৪ সালে ডঃ এম. এ. রশিদ কলেজের অধ্যক্ষ হয়েছিলেন। এসময়ে এগ্রিকালচারাল এন্ড মেকানিক্যাল কলেজ অব টেক্সাস (বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়) ও আহসানউল্লাহ কলেজের সাথে যৌথ ব্যবস্থাপনার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ফলে ওখান থেকে অধ্যাপকগন এদেশে এসে শিক্ষকতার মান, ল্যাবরেটরী ও পাঠ্যক্রম উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। শিক্ষকদের মানোন্নয়নের জন্য কিছু শিক্ষককে স্নাতকোত্তর পড়াশোনার জন্য টেক্সাস এ. এন্ড এম. কলেজে পাঠানো হয়। এসময় এশিয়া ফাউন্ডেশন লাইব্রেরীকে কিছু প্রয়োজনীয় বইপত্র দান করে এবং রেন্টাল লাইব্রেরী প্রথা চালু করা হয়। কলেজ থাকা অবস্থায় ছাত্রদের জন্য কেবল দুটি ছাত্রাবাস ছিলঃ মেইন হোস্টেল (বর্তমান ডঃ এম. এ. রশীদ ভবন) ও সাউথ হোস্টেল (বর্তমান নজরুল ইসলাম হল)
প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু
পাকিস্তান আমলে ১৯৬২ সালের ১ জুন তারিখে এটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করে নাম দেয়া হয় পূর্ব পাকিস্তান প্রকৌশল ও কারিগরী বিশ্ববিদ্যালয় (East Pakistan University of Engineering and Technology, or EPUET)। তৎকালীন কারিগরী শিক্ষা পরিচালক ডঃ এম. এ. রশিদ প্রথম ভাইস চ্যান্সেলর নিযুক্ত হন। অধ্যাপক এ. এম. আহমেদ প্রকৌশল অনুষদের প্রথম ডীন নিযুক্ত হন। খ্যাতনামা গণিতজ্ঞ এম. এ. জব্বার প্রথম রেজিস্ট্রার ও মমতাজউদ্দিন আহমেদ প্রথম কম্পট্রোলার নিযুক্ত হন। ডঃ এম. এ. রশিদের যোগ্য নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়টি দৃঢ় ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়রূপে প্রতিষ্ঠিত হবার পরে ছাত্রদের জন্য তিনটি নতুন আবাসিক হল তৈরি করা হয়। অধ্যাপক কবিরউদ্দিন আহমেদ প্রথম ছাত্রকল্যাণ পরিচালক পদে নিযুক্ত হন। ১৯৬২ সালেই প্রথম স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদে স্থাপত্য বিভাগ গঠন করা হয়, এই বিভাগের জন্য টেক্সাস এ. এন্ড এম. কলেজের কয়েকজন শিক্ষক যোগদান করেন। এভাবে প্রকৌশল ও স্থাপত্য এই দুটি অনুষদে পুর, যন্ত্র, তরিৎ, কেমি ও ধাতব প্রকৌশল এবং স্থাপত্য বিভাগ নিয়ে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রা শুরু করে। ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের জন্য ১৯৬৪ সালে আসন সংখ্যা ২৪০ থেকে ৩৬০ জনে বৃদ্ধি করা হয়। একই বছরে বর্তমান ৭ তলা পুরকৌশল ভবন নির্মাণ শুরু হয়। ১৯৬৯-৭০ সালে আসন সংখ্যা ৪২০ জনে উন্নীত হয়। এসময় স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদে ফিজিক্যাল প্ল্যানিং নামে একটি নতুন বিভাগ চালু হয়। এটিই পরবর্তীতে নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগে পরিণত হয়েছে।
স্বাধীনতার পর
১৯৭১ এ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পরে এর নাম পরিবর্তন করে বর্তমানের নাম, অর্থাৎ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় রাখা হয়।
ক্যাম্পাস
বুয়েট ক্যাম্পাস ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত। এটি একটি ছোট্ট ক্যাম্পাস। ছাত্রদের আবাসিক হলগুলো একাডেমীর ভবন থেকে হাঁটার দূরত্বে অবস্থিত। বর্তমানে ক্যাম্পাসের আয়তন হল ৭৬.৮৫ একর (৩১১,০০০ ব.মি.)।
অনুষদ এবং বিভাগ সমূহ
বুয়েটে বর্তমানে ৫ টি অনুষদের অধীনে ১৬ টি বিভাগ রয়েছে। অনুষদগুলো হলো স্থাপত্য এবং পরিকল্পনা অনুষদ, পুরকৌশল অনুষদ, তড়িৎ এবং ইলেক্ট্রনিক কৌশল অনুষদ, প্রকৌশল অনুষদ, এবং যন্ত্র কৌশল অনুষদ।
স্থাপত্য এবং পরিকল্পনা অনুষদের অধীনস্ত বিভাগ গুলো হলো স্থাপত্য বিভাগ, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগ, এবং মানবিক বিভাগ।
পুরকৌশল অনুষদের অধীনের বিভাগদুটি হলো পুরকৌশল বিভাগ ও পানিসম্পদ কৌশল বিভাগ।
যন্ত্রকৌশল অনুষদের অধীনে রয়েছে যন্ত্রকৌশল বিভাগ, নৌযান ও নৌযন্ত্র কৌশল বিভাগ, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ও প্রোডাকশন কৌশল বিভাগ।
তড়িৎ এবং ইলেকট্রনিক কৌশল অনুষদের অধীনে রয়েছে তড়িৎ এবং ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগ, এবং কম্পিউটার বিজ্ঞান ও কৌশল বিভাগ।
প্রকৌশল অনুষদের অধীনস্ত বিভাগগুলো হলো কেমিকৌশল বিভাগ, বস্তু ও ধাতব কৌশল বিভাগ, রসায়ন বিভাগ, গণিত বিভাগ, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগ, এবং পেট্রোলিয়াম ও খনিজ সম্পদ কৌশল বিভাগ।
Dinajpur Medical College
Sir Salimullah Medical College
Sher e Bangla Medical College
Rangpur Medical College
Bangladesh Univarsity of Engineering & Technology
Subscribe to:
Comments (Atom)





