Real Online Income ( Outsourcing Info : Freelancing )


Sunday, October 30, 2011

Steve Jobs (Apple)

চির তরুণ স্টিভ জবস

 

 শুরুতে অ্যাপল কম্পিউটার দিয়ে স্টিভ জবস বিশ্ব মাত করেছিলেন। এরপর অ্যানিমেশন স্টুডিও পিকচার থেকে তৈরি করেন টয় স্টোরি, ফাইন্ডিং নিমোর মতো অসাধারণ সব অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র। আইপড ও আইফোনের কারণেও তাঁর সুনাম বেড়েছে বহুগুণ। তথ্যপ্রযুক্তির এই দিকপাল মৃত্যুবরণ করেন ৫ অক্টোবর।
স্টিভ জবস উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে পারেননি, কিন্তু আমন্ত্রিত হয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০৫ সালের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে।

প্রথমেই একটা সত্য কথা বলে নিই। আমি কখনোই বিশ্ববিদ্যালয় পাস করিনি। তাই সমাবর্তন জিনিসটাতেও আমার কখনো কোনো দিন উপস্থিত হওয়ার প্রয়োজন পড়েনি। এর চেয়ে বড় সত্য কথা হলো, আজকেই কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠান সবচেয়ে কাছে থেকে দেখছি আমি। তাই বিশ্বের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পেরে নিজেকে অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করছি। কোনো কথার ফুলঝুরি নয় আজ, স্রেফ তিনটা গল্প বলব আমি তোমাদের।

১. বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে এক সুতায় বাঁধার গল্প
রিড কলেজে ভর্তি হওয়ার ছয় মাসের মাথায়ই পড়ালেখায় ক্ষান্ত দিই আমি। আচ্ছা, কেন আমি বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়লাম?
এর শুরু আসলে আমার জন্মেরও আগে। আমার আসল মা ছিলেন একজন অবিবাহিত তরুণী। তিনি তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেন। আমার ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। তিনি সিদ্ধান্ত নেন, আমাকে কারও কাছে দত্তক দেবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোর শর্তে এক আইনজীবী দম্পতির হাতে আমাকে তুলে দেন তিনি।
এর ১৭ বছর পরের ঘটনা। তাঁরা আমাকে সত্যি সত্যিই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়েছিলেন। কিন্তু আমি বোকার মতো বেছে নিয়েছিলাম এমন এক বিশ্ববিদ্যালয়, যার পড়ালেখার খরচ প্রায় তোমাদের এই স্ট্যানফোর্ডের সমান। আমার দরিদ্র মা-বাবার সব জমানো টাকা আমার পড়ালেখার পেছনে চলে যাচ্ছিল। ছয় মাসের মাথায়ই আমি বুঝলাম, এর কোনো মানে হয় না। তাই আমি বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। সিদ্ধান্তটা ভয়াবহ মনে হলেও এখন আমি যখন পেছন ফিরে তাকাই, তখন মনে হয়, এটা আমার জীবনের অন্যতম সেরা সিদ্ধান্ত ছিল।
ডরমিটরিতে আমার কোনো রুম ছিল না, বন্ধুদের রুমের ফ্লোরে ঘুমোতাম। ব্যবহূত কোকের বোতল ফেরত দিয়ে আমি পাঁচ সেন্ট করে কামাই করতাম, যেটা দিয়ে খাবার কিনতাম। প্রতি রোববার রাতে আমি সাত মাইল হেঁটে হরেকৃষ্ণ মন্দিরে যেতাম শুধু একবেলা ভালো খাবার খাওয়ার জন্য। এটা আমার খুবই ভালো লাগত।
সে সময় রিড কলেজে সম্ভবত দেশের সেরা ক্যালিগ্রাফি শেখানো হতো। আমি যেহেতু আর স্বাভাবিক পড়ালেখার মধ্যে ছিলাম না, তাই যেকোনো কোর্সই চাইলে নিতে পারতাম। আমি ক্যালিগ্রাফি কোর্সে ভর্তি হয়ে গেলাম।
এ ক্যালিগ্রাফি জিনিসটা কোনো দিন বাস্তবজীবনে আমার কাজে আসবে—এটা কখনো ভাবিনি। কিন্তু ১০ বছর পর আমরা যখন আমাদের প্রথম ম্যাকিন্টোস কম্পিউটার ডিজাইন করি, তখন এর পুরো ব্যাপারটাই আমার কাজে লাগল। আমি যদি সেই ক্যালিগ্রাফি কোর্সটা না নিতাম, তাহলে ম্যাক কম্পিউটারে কখনো নানা রকম অক্ষর (টাইপফেইস) এবং আনুপাতিক দূরত্বের অক্ষর থাকত না। যেহেতু উইন্ডোজ ম্যাকের এই ফন্ট সরাসরি নকল করেছে, তাই বলা যায়, কোনো কম্পিউটারেই এ ধরনের ফন্ট থাকত না।
আমি যদি বিশ্ববিদ্যালয় না ছাড়তাম, তাহলে আমি কখনোই ওই ক্যালিগ্রাফি কোর্সে ভর্তি হতাম না এবং কম্পিউটারে হয়তো কখনো এত সুন্দর ফন্ট থাকত না। অবশ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা অবস্থায় এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে এক সুতায় বাঁধা অসম্ভব ছিল, কিন্তু ১০ বছর পর পেছনে তাকালে মনে হয়, এটা ছিল খুবই পরিষ্কার একটা বিষয়।

২. ভালোবাসা আর হারানোর গল্প
আমি খুব ভাগ্যবান ছিলাম। কারণ, জীবনের শুরুতেই আমি যা করতে ভালোবাসি, তা খুঁজে পেয়েছিলাম। আমার বয়স যখন ২০, তখন আমি আর ওজ দুজনে মিলে আমাদের বাড়ির গ্যারেজে অ্যাপল কোম্পানি শুরু করি। আমরা পরিশ্রম করেছিলাম অক্লান্ত, তাই তো দুজনের সেই কোম্পানি ১০ বছরের মাথায় চার হাজার কর্মচারীর দুই বিলিয়ন ডলারের কোম্পানিতে পরিণত হয়। আমার বয়স যখন ৩০, তখন আমরা আমাদের সেরা কম্পিউটার ম্যাকিন্টোস বাজারে ছেড়েছি। এর ঠিক এক বছর পরের ঘটনা। আমি অ্যাপল থেকে চাকরিচ্যুত হই। যে কোম্পানির মালিক তুমি নিজে, সেই কোম্পানি থেকে কীভাবে তোমার চাকরি চলে যায়? মজার হলেও আমার ক্ষেত্রে সেটা ঘটেছিল। প্রতিষ্ঠান হিসেবে অ্যাপল যখন বড় হতে লাগল, তখন কোম্পানিটি ভালোভাবে চালানোর জন্য এমন একজনকে নিয়োগ দিলাম, যে আমার সঙ্গে কাজ করবে। এক বছর ঠিকঠাকমতো কাটলেও এর পর থেকে তার সঙ্গে আমার মতের অমিল হতে শুরু করল। প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ তার পক্ষ নিলে আমি অ্যাপল থেকে বহিষ্কৃত হলাম এবং সেটা ছিল খুব ঢাকঢোল পিটিয়েই। তোমরা বুঝতেই পারছ, ঘটনাটা আমার জন্য কেমন হতাশার ছিল।
মনে হতো, ভ্যালি ছেড়ে পালিয়ে যাই। কিন্তু সেই সঙ্গে আরেকটা জিনিস আমি বুঝতে পারলাম, আমি যা করছিলাম, সেটাই আমি সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি। চাকরিচ্যুতির কারণে কাজের প্রতি আমার ভালোবাসা এক বিন্দুও কমেনি। তাই আমি আবার একেবারে গোড়া থেকে শুরু করার সিদ্ধান্ত নিলাম।
আমি অনেকটা নির্ভার হয়ে গেলাম, কোনো চাপ নেই, সফল হওয়ার জন্য বাড়াবাড়ি রকমের কৌশল নিয়ে ভাবার অবকাশ নেই। আমি প্রবেশ করলাম আমার জীবনের সবচেয়ে সৃজনশীল অংশে।
পরবর্তী পাঁচ বছরে নেক্সট ও পিকচার নামের দুটো কোম্পানি শুরু করি আমি, আর প্রেমে পড়ি এক অসাধারণ মেয়ের, যাকে পরে বিয়ে করি। পিকচার থেকে আমরা পৃথিবীর প্রথম কম্পিউটার অ্যানিমেশন ছবি টয় স্টোরি তৈরি করি, আর এখন তো পিকচারকে সবাই চেনে। পৃথিবীর সবচেয়ে সফল অ্যানিমেশন স্টুডিও। এরপর ঘটে কিছু চমকপ্রদ ঘটনা। অ্যাপল নেক্সটকে কিনে নেয় এবং আমি অ্যাপলে ফিরে আসি। আর লরেনের সঙ্গে চলতে থাকে আমার চমৎকার সংসারজীবন। আমি মোটামুটি নিশ্চিত, এগুলোর কিছুই ঘটত না, যদি না অ্যাপল থেকে আমি চাকরিচ্যুত হতাম।

৩. শেষ গল্পটির বিষয় মৃত্যু
আমার বয়স যখন ১৭ ছিল, তখন আমি একটা উদ্ধৃতি পড়েছিলাম, ‘তুুমি যদি প্রতিটি দিনকেই তোমার জীবনের শেষ দিন ভাব, তাহলে একদিন তুমি সত্যি সত্যিই সফল হবে।’ এ কথাটা আমার মনে গভীরভাবে রেখাপাত করেছিল এবং সেই থেকে গত ৩৩ বছর আমি প্রতিদিন সকালে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে জিজ্ঞেস করি, আজ যদি আমার জীবনের শেষ দিন হতো, তাহলে আমি কি যা যা করতে যাচ্ছি, আজ তা-ই করতাম, নাকি অন্য কিছু করতাম?
পৃথিবী ছেড়ে আমাকে একদিন চলে যেতে হবে, এ জিনিসটা মাথায় রাখার ব্যাপারটাই জীবনে আমাকে বড় সব সিদ্ধান্ত নিতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছে। কারণ, প্রায় সবকিছুই যেমন সব অতি প্রত্যাশা, সব গর্ব, সব লাজলজ্জা আর ব্যর্থতার গ্লানি—মৃত্যুর মুখে হঠাৎ করে সব নেই হয়ে যায়, টিকে থাকে শুধু সেটাই, যা সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ। তোমার কিছু হারানোর আছে—আমার জানা মতে, এ চিন্তা দূর করার সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে, সব সময় মনে রাখা যে একদিন তুমি মরে যাবে। তুমি খোলা বইয়ের মতো উন্মুক্ত হয়েই আছো। তাহলে কেন তুমি সেই পথে যাবে না, যে পথে তোমার মন তোমাকে যেতে বলছে?
প্রায় এক বছর আগের এক সকালে আমার ক্যানসার ধরা পড়ে। চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে, এর থেকে মুক্তির কোনো উপায় নেই। প্রায় নিশ্চিতভাবে অনারোগ্য এই ক্যানসারের কারণে তাঁরা আমার আয়ু বেঁধে দিলেন তিন থেকে ছয় মাস। উপদেশ দিলেন বাসায় ফিরে যেতে—যেটার সোজাসাপটা মানে দাঁড়ায়, বাসায় গিয়ে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হও। এমনভাবে জিনিসটাকে ম্যানেজ কোরো, যাতে পরিবারের সবার জন্য বিষয়টা যথাসম্ভব কম বেদনাদায়ক হয়।
সারা দিন পর সন্ধ্যায় আমার একটা বায়োপসি হলো। জানা গেল, আমার ক্যানসার যে অবস্থায় আছে, তা সার্জারির মাধ্যমে চিকিৎসা সম্ভব। আমার সেই সার্জারি হয়েছিল এবং দেখতেই পাচ্ছ, এখন আমি সুস্থ।
কেউই মরতে চায় না। এমনকি যারা স্বর্গে যেতে চায়, তারাও সেখানে যাওয়ার জন্য তাড়াতাড়ি মরতে চায় না। পুরোনোকে ঝেড়ে ফেলে মৃত্যু ‘এসেছে নতুন শিশু’র জন্য জায়গা করে দেয়। এই মুহূর্তে তোমরা হচ্ছ নতুন, কিন্তু খুব বেশি দিন দূরে নয়, যেদিন তোমরা পুরোনো হয়ে যাবে এবং তোমাদের ঝেড়ে ফেলে দেওয়া হবে। আমার অতি নাটুকেপনার জন্য দুঃখিত, কিন্তু এটাই আসল সত্য।
তোমাদের সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
পৃথিবীর অন্যসব মানুষের তুলনায় স্টিভ জবস বেঁচে ছিলেন কম সময়। মাত্র ৫৬ বছর।
জবস পাল্টে দিয়েছেন মানবসভ্যতার তিনটি ‘C’—কীভাবে মানুষ ‘Connect’, ‘Communicate’ ও ‘Consume’ করে। অথচ টাকা-পয়সার অভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে পারেননি। আরেক স্টিভ, স্টিভ ওজনিয়াকের সঙ্গে মিলে প্রতিষ্ঠা করেন অ্যাপল ইনকরপোরেট!
ঢাকার আগারগাঁওয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরে পুরোনো দিনের মেইন ফ্রেম কম্পিউটার দেখা যায়। ঢাউস কম্পিউটারগুলো দেখলে বোঝা যায়, একসময় কম্পিউটার কেমন ছিল! আর এখন তো আমাদের পকেটেই কম্পিউটার থাকে! সাভারের পরমাণু শক্তি কমিশনে এই অঞ্চলের প্রথম কম্পিউটারটি বসানো হয়েছিল সেই ষাটের দশকে। সেটির আকার ছিল একটি কক্ষের সমান।
অ্যাপল কম্পিউটার শুরু করার পর স্টিভ জবসের কাজ ছিল বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানে ঘুরে বেড়ানো। পলো আলটোতে জেরক্স কোম্পানির একটি গবেষণাগারে জবস প্রথম এমন একটা বস্তু দেখেন, যা এখন মাউস নামে পরিচিত। দৃষ্টির সীমানা ছাড়িয়ে অনেক দূর দেখতে পাওয়া মানুষটি সঙ্গে সঙ্গে বুঝতে পারেন, এই ছোট্ট যন্ত্র এবং এর সঙ্গে কম্পিউটারের পর্দায় ছবি দিতে পারলেই সাধারণ মানুষ কম্পিউটার ব্যবহার করতে পারবে। সেটি ছিল ম্যাকিন্টোশ কম্পিউটারের চিন্তা। ১৯৮৪ সালের জানুয়ারি মাসে পর্দায় ছবি আর মাউস নিয়ে ম্যাকের আবির্ভাবের পর থেকে পাল্টে গেছে কম্পিউটারের জগৎ।
সব মুদ্রারই অপর পিঠ থাকে। ১৯৮৫ সালে ছেড়ে দিতে হয় অ্যাপল। একটি রেখে অ্যাপলের সব শেয়ার বিক্রি করে দেন তিনি। হাতে ২০ কোটি ডলার নিয়ে শুরু করেন নতুন যাত্রা—নেক্সট নামের একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন, যার লক্ষ্য হলো নতুন প্রজন্মের অপারেটিং সিস্টেম বানানো। জবসের উদ্দেশ্য ছিল, কম্পিউটারকে নানা রকম অনুষঙ্গের সঙ্গে যুক্ত করা, যাতে মানুষে মানুষে সংযুক্তি আর যোগাযোগ হয় সহজসাধ্য এবং সর্বজনীন। সে সময় আকস্মিকভাবে তিনি যুক্ত হন পিকচার নামের একটি অ্যানিমেশন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। জবসের হাত ধরে পিকচার থেকে সূচিত হয় অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র। এখানে তাঁর ভূমিকা ছিল একজন উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীর। কিন্তু তাঁর স্বভাবসুলভ গভীরে ঢোকার বৈশিষ্ট্যই পিকচারের কর্মীদের অনুপ্রাণিত করে অনেকখানি। সে কারণে টয় স্টোরির গল্প শুধু গল্পই থাকে না, হয়ে ওঠে চলচ্চিত্রের বাঁকবদলের ক্ষণ।
অন্যদিকে নেক্সটের ফলাফল নিয়ে ১৯৯৭ সালে প্রবলভাবে অ্যাপলে ফিরে আসেন জবস। শুরু হয় অ্যাপলের নবযাত্রা। আইম্যাক, আইপড, আইফোন কিংবা আইপ্যাড—সবটাতেই আমরা জবসের কয়েকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য দেখতে পাই। প্রথমটি হলো অতৃপ্তি! জবস সব সময় একটি সম্পূর্ণ পণ্য তৈরি করতে চান। শুরু থেকে জবসের গভীরে ঢোকার অভ্যাস ছিল। সেটিই পূর্ণতা পায় দ্বিতীয়বার অ্যাপলে এসে।
জবসের আরেকটি বৈশিষ্ট্য ছিল—ব্যবহারকারীর হাত আর চোখ দিয়ে পণ্যকে বিচার করা। এ কারণে সব ধরনের নতুন পণ্য তিনি ব্যবহার করতেন। ভাবতেন, কীভাবে বিষয়গুলো আরও সহজ করা যায়। আইফোনে যদি কোনো সুইচ না থাকত, তাহলে তিনি সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন। কিন্তু প্রকৌশলীরা তাঁকে বুঝিয়েছেন, কমপক্ষে একটি সুইচ বা বাটন থাকা অপরিহার্য।
অ্যাপল স্টোর চালুর পর ইকোনমিস্ট পত্রিকায় শিরোনাম করে, ‘দুঃখিত স্টিভ। তোমার ম্যাজিক এখানে কাজে লাগবে না।’ কিন্তু দেখা যাচ্ছে, সরাসরি ভোক্তার কাছে পৌঁছানোয় স্টিভ ম্যাজিক অনেক বেশি মাইলেজ দিয়েছে অ্যাপলকে। গ্যারেজ থেকে উঠে আসা অ্যাপল ইনকরপোরেটেড বাজার মূলধন এখন ইন্টেল আর মাইক্রোসফটের সম্মিলিত বাজার মূলধনের চেয়ে বেশি। বিশ্বব্যাপী অ্যাপলের রয়েছে কয়েক লাখ কর্মী। কিন্তু এর চেয়েও বড় কথা, অ্যাপল তার মিউজিক স্টোরের মাধ্যমে বিশ্বের হাজার হাজার তরুণ-তরুণী এখন নিজেদের দিন বদলের রাস্তা খুঁজে নিচ্ছেন।
স্টিভ জবসের জন্ম না হলে আমাদের মতো তৃতীয় বিশ্বের বাসিন্দাদের অনেকেরই কিন্তু কম্পিউটার ব্যবহার করা সম্ভব হতো না!

No comments:

Post a Comment